অবশেষে প্রায় তিন মাস পর করোনায় মৃত্যুশূন্য দিন দেখল চট্টগ্রাম। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় প্রতিদিনই মৃত্যু দেখেছে চট্টগ্রাম। একইসময়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। এদিন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন। এর মধ্যে নগরে ৩৪ এবং উপজেলা পর্যায়ে ৭ জন। সংক্রমণের হার ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত গিয়ে দাঁড়াল ১ লাখ ১ হাজার ১৭২ জন। এর মধ্যে নগরে ৭৩ হাজার ৩২৮ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৭ হাজার ৮৪৪ জন। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১ হাজার ২৭৯ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে নগরে ৭০৬ এবং উপজেলায় ৫৭৩ জন।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলার করোনা সম্পর্কিত এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ১২টি ল্যাব এবং কক্সবাজারের একটি ল্যাব মিলে ১ হাজার ৫১৩ জনের নমুুুুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৪১ জনের।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জনকে করোনার জীবাণুবাহক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বিআইটিআইডিতে ৪৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ১৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

কক্সবাজারে মেডিকেল কলেজে চট্টগ্রামের ৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারো করোনা শনাক্ত হয়ঙনি।

এন্টিজেন টেস্টে ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারো ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। শেভরনে ৪৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আরটিএলে ৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারো করোনা শনাক্ত হয়নি। মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং ইপিক হেলথ কেয়ারে ৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জনের করোনে শনাক্ত হয়েছে।

এদিন এন্টিজেন টেস্ট & ল্যাব এইডে নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

উপজেলা পর্যায়ে ১৪ উপজেলার মধ্যে ১১ উপজেলায় নতুনভাবে করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। উপজেলাগুলো হচ্ছে, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি ও সন্দ্বীপ। উপজেলায় শনাক্ত ৭ রোগীর মধ্যে হাটহাজারীতে ৩ জন, মিরসরাইয়ে ২ জন, সীতাকুণ্ড ১ ও বোয়ালখালীতে ১ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে গত বছরের ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম কোনো ব্যক্তি মারা যান।

আরও খবর