নিজস্ব প্রতিবেদক:

লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই পাঁচজন হলো সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আবু সিদ্দিক সোহেল, আরাফাত রহমান, আকরাম হোসেন। এদের মধ্যে জিয়াউল হক আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকুরিচ্যুত সাবেক মেজর। একই রায়ে শফিউর রহমান ফারাবি নাকের এক জঙ্গীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার আগে মঙ্গলবার সকালে কাশিমপুর কারাগারে থাকা চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলার দুই আসামি মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত ফারাবী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তাকে পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিজিৎ রায় ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলায় স্ত্রীর সাথে বেড়াতে এসেছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ। ঘটনার পর অভিজিতের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায় শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

একই বছর জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছিলেন অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন। গত সপ্তাহে দীপন হত্যার রায়ে আট জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। অভিজিৎ রায়ের পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায় ৮৩ বছর বয়সে ২০১৯ সালের শেষ দিকে মারা যান।

আরও খবর