কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে দুই দল খুব বেশি মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পায়নি। সবমিলিয়ে চারবার তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। সেগুলো আবার কোন দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে নয়, কেবলই বিশ্বকাপে। এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। সবকিছু মিলিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি শুরু হচ্ছে আজ থেকে। এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে বিটিভি, গাজী টেলিভিশন ও টি-স্পোর্টসে।

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে দুই দলের শেষবার দেখা হয়েছিল পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে। দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা। যেখানে নেই বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ তিন ক্রিকেটার। তামিম, মুশফিক ও লিটনকে হারিয়ে তাই কিছুটা হলেও খর্বশক্তির দলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ারও একই দশা। মূল দল আসেনি বাংলাদেশ সফরে। রিলে মেরিডিথ আর অ্যারন ফিঞ্চ ছিটকে গেছেন ইনজুরিতে। আগে থেকেই ছিলেন না স্টিভেন স্মিথ। এছাড়া ব্যক্তিগত কার’ণে আসেননি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ডেভিড ওয়ার্নার। সব মিলিয়ে দু’দলই সেরা ক্রিকেটারদের হারিয়ে কিছুটা খর্বশক্তির। যদিও তাদের লক্ষ্য কিন্তু অভিন্ন! এই সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছে। সোমবারের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়ে গেছেন দুই দলের অধিনায়ক।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, এটা বড় সুযোগ স্কিল দেখানোর। এই সিরিজটি জিততে পারলে আমাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে। অন্যতম সেরা দলকে হারাতে প্রথম বল থেকে সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে।’

এদিকে বিশ্বকাপের আগে শেষ টি টোয়েন্টি সিরিজ বলেই জয়কে ছাপিয়ে সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করার চেষ্টায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা এই সিরিজ জিততে চাই। প্রতিটি ম্যাচই আমরা সবসময় জিততে চাই। তবে এটা একটা সুযোগ সবাইকে দেখার যে বিভিন্ন ভূমিকায় তারা কেমন করছে, যাতে বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময় বোঝা যায় কোন ভূমিকায় কে কেমন করছে। সেই সুযোগটি নিতে সবাই রোমাঞ্চিত। নানা জায়গায় নিজেদের তুলে ধরতে মুখিয়ে থাকবে অনেকেই।’

দুই দলের ভাবনাতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মহড়া হলেও সিরিজ জিততে মরিয়া প্রত্যেকেই। ম্যাচের আগের দুইদিনের অনুশীলনেই সেটিই ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ দলতো পাওয়ার হিটিং দিয়েই প্রস্তুতি সারলো। এমনকি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা নেটেও ম্যাচের মুহূর্তে তৈরি করে অনুশীলন করেছে। শেষ বলে প্রয়োজন তিন রান। স্ট্রাইকে সাকিব। বোলার শরিফুল ইসলাম, ওয়াইড ইয়র্কারের ফিল্ডিং সাজিয়ে বল করলেন। সাকিব ব্যাট চালিয়ে ম্যাচ জিতে নিলেন। এভাবেই ছোট ছোট মুহূর্ত তৈরি করে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য একটাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে তাদের চমকে দেওয়া।

 

আরও খবর