বাংলাদেশের আইনজগতের বাতিঘর হিসেবে খ্যাত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক উল হক আর নেই।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানী ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে তিনি মারা যান।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গত ১০ দিন ব্যারিস্টার রফিক উল হক আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রফিক উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালে, কলকাতায়। ১৯৫৮ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৬০ সালে তিনি আইন পেশায় আসেন। ১৯৬১ সালে অর্জন করেন বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯০ সালে তাঁকে অ্যাটর্নি জেনারেল করা হয়। তাঁর ছেলে ফাহিম-উল হকও আইনজীবী। তাঁর স্ত্রী ফরিদা হক বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান।

এই প্রবীণ আইনজীবী মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ অনেকেই শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন জানান, শনিবার বেলা ২টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে রফিক–উল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এবং পরে বায়তুল মোকাররমে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

ব্যারিস্টার রফিকুল হক এক-এগারোর অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন মামলার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন আলোচিত মামলায় তিনি রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে কাজ করে সবার মন জয় করেছেন।

তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন কী জানতে চাইলে জীবদ্দশায় ব্যারিস্টার রফিক উল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত করতে লড়েছিলাম এবং তাকে মুক্ত করে এনেছিলামও। তার মেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও এক-এগারো সরকারের কারাগার থেকে মুক্ত করতে পেরেছি পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এবং দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও কারাগার থেকে মুক্ত করতে পেরেছি।

আরও খবর