আফগানিস্তানে তালেবান বাহিনী উত্তরাঞ্চলের বাদাখসান প্রদেশের রাজধানী ফাইজাবাদ দখল করে নিয়েছে। এনিয়ে মাত্র ছয় দিনে ৯টি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে নিল তালেবান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানের মোট ভূখণ্ডের ৬৫ শতাংশে তালেবান তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ১১টি প্রাদেশিক রাজধানীর পতন ঘটতে পারে যেকোনো সময়। আর আফগানিস্তানের মোট প্রদেশ রয়েছে ৩৪টি।

বাদাখসান প্রদেশের স্থানীয় আইন প্রণেতা জাবিহুল্লাহ আতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান , ‘গত কয়েক দিন তালেবানের সঙ্গে তীব্র লড়াই চালানো সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তীব্র চাপে পড়েন। এখন তালেবান পুরো শহর দখলে নিয়েছে। দুই পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

এএফপি আরও জানায়, তালেবান বাহিনী ফাইজাবাদ দখলের পর প্রচণ্ড চাপে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের বড় শহর মাজার-ই-শরিফ। সরকারি বাহিনীর মনোবল চাঙ্গা রাখতে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি বুধবার প্রায় অবরুদ্ধ উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফ সফরে গেছেন।

গত ছয় দিনে তালেবান বাহিনী ফারাহ, পুল-ই-খুমরি, জারাঞ্জ ছাড়াও প্রাদেশিক রাজধানী কুন্দুজ, তাকহার, সার-ই-পল, তালুকান, সেবারঘানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান।

ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে জেনারেল ওয়ালি মোহাম্মাদ আহমাদজাইকে অপসারণ করে তার জায়গায় জেনারেল হাইবাতুল্লাহ আলীজাইকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ খান মোহাম্মাদীকে বরখাস্ত করেছেন। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন অর্থমন্ত্রী খালিদ পায়েন্দা।

পশ্চিমাদের পছন্দের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকারকে হটিয়ে আফগানিস্তানে নিজেদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তালেবান। সম্প্রতি তালেবানদের একটা প্রতিনিধি দল চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে দেখা করে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের মাটি চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে তারা দিবে না। আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার চূড়ান্ত করার মধ্যে একের পর এক জেলা, শহর, প্রাদেশিক রাজধানী দখলে নিচ্ছে তালেবান।

লক্ষ্য অর্জনে সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে তালেবানরা তাদের অভিযান জোরদার করেছে। বিশ্নেষকদের আশঙ্কা, যে কোনো মুহূর্তে রাজধানী কাবুলেরও পতন ঘটতে পারে। পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তালেবান যোদ্ধারা রাজধানী কাবুল দখলে নিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।

চট্টগ্রাম বার্তা/পিএ

আরও খবর