সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপে ফাঁদ পেতে ধনীর দুলালদের টার্গেট করেন ‘সুন্দরী’ মিনু আক্তার নামের এক প্রতারক নারী। সেজন্য ফেসবুকে বিভিন্ন নামে একাধিক আইডিও খুলেছেন তিনি। প্রতারণার জন্য তিনি কখনো সাজেন মিনু আক্তার, কখনো ফাতেমা বেগম, কখনোবা রোমানা কিংবা সিমুও। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসআ্যাপ। এসব আইডি ব্যবহার করেই ফাঁদ পাতেন মিনু। এরপর টার্গেট করা ধনীর দুলালদের সঙ্গে গড়ে তোলেন সম্পর্ক। অর্থবিত্তের অবস্থা ভালো হলে বিয়েও করেন। কিন্তু বিয়ের পর পাল্টে যান বহুরূপী মিনু। নানা বাহানা, হুমকি-ধমকি ও মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে আদায় করেন অর্থ-সম্পদ।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালতে এই বহুরূপী নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তারই স্বামী প্রবাসী ইমাম হোসেন। তিনি জোরারগঞ্জের দূর্গাপুর ইউনিয়নের নুর আলমে ছেলে। কাতার প্রবাসী ইমাম হোসেন পেশায় একজন গাড়ি চালক।

মামলায় মিনু আক্তারের সাথে মোস্তফা জামিল (৩৭) ও রাশেদকে (৩৯) আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মিনু আক্তারের সাথে ১০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয় ইমাম হোসেনের সাথে। বিয়ের পর তার নজরে আসে মিনুর সাথে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার রাশেদ নামে এক যুবকের ৪ বছর যাবৎ মিনু শারীরিক সম্পর্কও বজায় রেখেছে। সব ভুলে মিনুকে সংসারে মনোযোগী হতে বলে ইমান আবারও পাড়ি জমান বিদেশে। এরই মধ্যে ওই বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় মিনু আক্তার হয়ে যান নাছমিন আক্তার সিমু। ১৮ ফেব্রুয়রি ২০২০ করেন আরও এক বিয়ে, এবার স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেন গাজীপুরের মোস্তফা জামিলকে।

মিনুর প্রতারণা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে ইমাম জানতে পারেন, ২০০৮ সালে টাঙ্গাইলের লুৎফুর রহমান নামের আরও একজনকে বিয়ে করেছিলেন। ওই সংসারে তার একটি সন্তানও আছে। এই নারীর সাথে আরও অনেকের বিশেষ সম্পর্ক আছে এবং তাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করাই তার কাজ।

ভুক্তভোগী ইমাম হোসেন বলেন, মিনু আক্তারের প্রতারণায় আমি আজ সর্বশান্ত। তার ৪টি ভিন্ন নামের পরিচয়পত্র, তিনটি কাবিননামা এবং অন্যান্য পুরুষের সাথে বিয়ে ছাড়া সম্পর্কের প্রমাণ আছে আমার কাছে। আমি আদালতে সব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি।

জানতে চাইলে ইমাম হোসেনের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, আদালতে মিনু আক্তারসহ এ চক্রের তিন সদস্যের নামে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আদালত বায়েজিদ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও খবর