প্রতিবছর নভেম্বরের শুরুতে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হয়। করোনার কারণে রোববার পর্যন্ত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা আয়োজনের কোনো প্রস্তুতি নেই শিক্ষাবোর্ডগুলোর। শ্রেণিকক্ষে ও অনলাইনে পাঠদান শেষে অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেই।

গতবারের মতো এবারো দুই শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিবেন। যে কারণে সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে সম্মত নন। অপর দিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড আগামী ১১ নভেম্বর এসএসসি ও সমমান এবং ২ ডিসেম্বর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়ে এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ঐচ্ছিক বিষয়ে পরীক্ষা হবে।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর নভেম্বরের শুরুতে জেএসসি ও জেডিসি এবং একইমাসের শেষের দিকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হয়। ২০১১ সাল থেকে এই দুই পরীক্ষা চালু করা হয়। পরীক্ষা নিতে কয়েক মাস আগেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, কেন্দ্র নির্ধারণ করে ঘোষণা দেয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড। করোনার কারণে গত বছর এ দুই শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করে অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়। যদিও শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর পরিবর্তন করা হয়নি।

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে যে রোল নম্বর ছিল সেটাই পরের শ্রেণিতে নির্ধারণ করা হয়। করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে প্রতিদিন সরাসরি পাঠদান করা হচ্ছে না। তাদের সপ্তাহে একদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে। তবে অনলাইনে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্লাস নিচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান না করায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না। এছাড়া আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করায় বোর্ডগুলো জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা নিতে পারছে না। অপরদিকে গত ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শিক্ষাক্রমের খসড়া রূপরেখা অনুমোদন দিয়েছেন। এই রূপরেখা অনুযায়ী নতুন কারিকুলামে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

আরও খবর