গত বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা মহামারির কারণে বন্ধ হয়ে পড়ে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। দেশের পাশাপাশি বাইরের পর্যটনপ্রেমীরাও আসতে পারেনি পৃথিবীর বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। অবশেষে গত ১৯ আগস্ট থেকে বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে সেই বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সরকার।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সকলকে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামুলক করার ঘোষণা দিলেও মাস্ক ব্যবহারে সচেতন নয় স্থানীয়সহ পর্যটকরা। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সমুদ্র সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। মাস্ক বিহীন ঘুরাফেরা করছে অসংখ্য পর্যটক। তাদের মধ্যে দেখা যায়নি স্বাস্থবিধি মেনে চলার কোন কিছুই। সৈকতে নামার সময় ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল মাস্ক পরিধানে বাধ্য করলেও তাদের বেষ্টনি পার হতেই তা খুলে ফেলে দিচ্ছে।

একই চিত্র দেখা যায় পুরো কক্সবাজারেই। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়দের পদচারণায় মুখরিত থাকছে মেরিন ড্রাইভ সড়ক, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানীর পাথুরে সৈকত, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামুর বৌদ্ধ বিহারসহ জেলা পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পাশাপাশি টেকনাফের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাচ্ছে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক। প্রতিদিন গড়ে যাতায়াত করছে অন্তত ৩ হাজার পর্যটক। তবে এসব পর্যটন কেন্দ্রে করোনা সংক্রমণ রোধে ট্যুরিস্টসহ প্রশাসন নানা ব্যবস্থা ও উদ্যোগের কথা জানালেও কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসন শর্ত সাপেক্ষে হোটেল মোটেল চালু করার অনুমতি দিলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অধিকাংশ হোটেলে তাপমাত্রা মাপা হয় না যন্ত্র থাকার পরেও। পর্যটকদের এমন ভিড় দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কে আছেন যেকোনো মুহূর্তে ভাইরাসের হটস্পটে পরিণত হতে পারে তাদের আবাসস্থল।

এসব বিষয় জানতে চাইলে হোটেল রিগ্যাল প্যালেস এর মালিক ফোরকান মাহমুদ বলছেন, প্রশাসনের সমস্ত নিয়ম মেনে আমরা হোটেল পরিচালনা করছি।

অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ জানান, করোনার আরেকটি ধাক্কা মোকাবেলায় তাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আবাসিক হোটেল মালিকদের সাথে বৈঠক করে তাদের করণীয় জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর