করোনা এবার হানা চালাল চট্টগ্রামের মিরসরাই ইকোনমিক জোনে ভারতীয়দের মধ্যে। তাতে করে এক সপ্তাহের মধ্যেই মারা গেছেন দুই ভারতীয় নাগরিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মারা যাওয়া দুই ভারতীয় সাগর থেকে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তারা আদানী নামে ভারতীয় একটি উন্নয়ন প্রজেক্টের কর্মী। এখানে আরও কয়েজন ভারতীয় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের সকলেরই কর্মস্থল চট্টগ্রামের মিরসরাই উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে’। এ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মোট ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর স্থাপন করা হচ্ছে। এ শিল্পাঞ্চল শুধু বাংলাদেশ নয় বরং উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্পনগরী।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার জিটুজি সমঝোতার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে গড়ে তোলা হচ্ছে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল। ভারত সরকারের অংশীদার হিসেবে আদানি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেডস অঞ্চলটি উন্নয়নের কাজ করছে। করোনায় মারা যাওয়া ও আক্রান্তদের সকলেই আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছিলেন। তারা মূলত সাগর থেকে বালি উত্তোলনকাজে নিয়োজিত কর্মী।

জানা গেছে, রোববার (৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল হোসেন (৪৫) নামের একজন ভারতীয় নাগরিক মারা যান। বর্তমানে তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। তার লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আবুল হোসেনের পাসপোর্ট নম্বর ২৭৭৪১৪৫। গত ২৩ জুলাই তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে ডেল্টা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এর আগে গত ২ আগস্ট করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও একজন ভারতীয় নাগরিক মারা যান। তিনিও মিরসরাইয়ে আদানি গ্রুপের অধীনে কাজ করছিলেন।

সূত্র জানিয়েছে, মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেশ ছড়িয়েছে। সেখানে কর্মরত আরও কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে।

মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে ডেল্টা হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হয়ে মো.আবুল হোসেন নামের একজন ভারতীয় নাগরিক মারা গেছেন। বর্তমানে লাশটি চমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।’

আরও খবর