চট্টগ্রামের করোনা শনাক্ত লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটছে। শনাক্তের রেকর্ড টিকছে না একদিনও। মাত্রই আগেরদিন (বৃহস্পতিবার) একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড গড়েছিল। এর মাত্র ২৪ ঘণ্টায় শুক্রবারে এসে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও করোনা এগিয়ে চলেছে ভয়ঙ্কর গতি নিয়ে। এদিন আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত হল রেকর্ড ১৪৬৬ জনের শরীরে। অবশ্য আগেরদিনের ১৭ মৃত্যুর পর চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেলেন আরও ৯ জন।

এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট করোনারোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ২১৭ জনে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দা ৬০ হাজার ৯০৭ এবং ১৪ উপজেলার ২০ হাজার ৩১০ জন। আর মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫৮ জনে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের ৫৭৪ জন ও উপজেলার ৩৮৪ জন।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নগরীর নয়টি ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব এবং এন্টিজেন টেস্টে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ৯২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নতুন ১৪৬৬ জন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে রয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ১ হাজার ৮৫ জন এবং উপজেলাগুলোতে ৩৮১ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে রাউজানে সর্বোচ্চ ৬২ জন, বোয়ালখালীতে ৪৮ জন, হাটহাজারীতে ৪৫ জন, সাতকানিয়ায় ৩৮ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৮ জন, ফটিকছড়িতে ৩৩ জন, সীতাকুণ্ডে ২৬ জন, চন্দনাইশে ২৬ জন, মিরসরাইয়ে ১৯ জন, সন্দ্বীপে ১৭ জন, পটিয়ায় ১৫ জন, বাঁশখালীতে ১২ জন এবং আনোয়ারায় রয়েছেন ৭ জন।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে (বিআইটিআইডি) ৮৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরের ৯৭ জন ও উপজেলার ৪৩ জন জীবাণুবাহক পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ২৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নগরের ৯৫ জন ও উপজেলার ২২ জনের শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৩৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরের ৯৭ ও উপজেলার ৪৭ জন জীবাণুবাহক পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নগরের ৮৮ জন ও উপজেলার ৫ জনের শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।

নগরীর বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ পরীক্ষা করা ২৮টি নমুনায় নগরের ৮ ও উপজেলার একটি নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। নমুনা সংগ্রহের পরপরই ফলাফল প্রদানকারী এন্টিজেন টেস্টে ৯০১ জনের মধ্যে ৩২৮ জন জীবাণুবাহক বলে জানানো হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ১১৫ জন ও উপজেলার ২১৩ জন। চট্টগ্রাম নগরীতে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহকারী কয়েকটি কেন্দ্র ও সাতটি বেসরকারি হাসপাতালে এন্টিজেন টেস্ট করা হয়ে থাকে।

এদিন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে কেবল তিনটি এবং সবগুলোর ফলাফলই ছিল নেগেটিভ।

এদিকে বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে ৮৮টি নমুনায় চট্টগ্রাম নগরের ৪৩ জন ও উপজেলার ৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। অন্যদিকে শেভরন ল্যাবে ২২৩টি নমুনায় চট্টগ্রাম নগরের ৭৬ জন ও উপজেলার ৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। বেসরকারি ইপিক হেলথ কেয়ারে ৬৮১টি নমুনার মধ্যে উপজেলার ৩০টিসহ ৩৭৯টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ২৩৭টি নমুনায় চট্টগ্রাম নগরের ৯২ জন ও উপজেলার ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। মেডিকেল সেন্টার ল্যাবে ৪৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৫টি নমুনা করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়— যার সবকটিই নগরের।

আরও খবর