বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের লাশ কেউ চোখে দেখেনি। না খালেদা, না তারেক রহমান। কেউ দেখেনি জিয়ার লাশ। জিয়ার লাশ দেখেছে জ্বিন-ভূত। তরা বলে রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে প্রথম দাফন করা হয়েছে। তখনকার প্রত্যক্ষদর্শী ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুতুবের সাথে আজ সকালেও আমি কথা বলেছি। তিনি বলেছেন তখন একটা বাক্স দাফন করা হয়েছে। সেখানে কারো লাশ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় তাদের বানানো জিয়ার মাজারে গিয়ে তারা ফুল দেয়। মারামারি করে। কিছু হলেই ফুল দিতে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন জিয়ার লাশ কেউ দেখেনি। বিএনপি আগামী দিনে সেই তথাকথিত মাজারে কারো কান ছেদা উপলক্ষ্যেও ফুল দিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে উত্তর জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন মন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আন্দোলনের নেতা ছিলেন। কিন্তু দেশ বিভাগের এক বছরের মাথায় তিনি বুঝে যান বাঙ্গালীর মুক্তি পাকিস্তানের সাথে থাকলে সম্ভব নয়। তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েই কমরেড মণি সিংহকে চিঠি লিখেছিলেন, আমি বাংলাদেশ স্বাধীন করার পরিকল্পনা নিচ্ছি, আপনারা আমার সাথে থাকবেন কিনা। এই তথ্যটি জাতির পিতার জন্মদিনের ১৯৭২ সালে কমরেড মণি সিংহ নিজেই বলেছিলেন। আর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ হলো ৬ দফা। সেই ৬ দফা তিনি চট্টগ্রাম থেকেই ঘোষণা করেছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পুরো পুথিবীর ইতিহাসেই বিরল। বাঙ্গালীর ইতিহাসে অনেক নেতাই এসেছেন। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু রক্ত চেয়েছিলেন স্বাধীনতার বিনময়ে, কেউ মাঠে নামেনি। মাস্টার দা সূর্যসেন চট্টগ্রামকে ১১ দিন স্বাধীন রেখেছিলেন। কিন্তু কেউ স্বাধীনতার পূর্ণতা দিতে পারেননি। জাতির পিতা সেটা করে দেখিয়েছেন। তার আহ্বানে পুরো জাতি মন্ত্রমূগ্ধের মতো যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। কিন্তু তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে জাতিকে অন্ধাকের নিমজ্জিত করেছিল স্বাধীনতার খল নায়ক জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল জিয়া।

উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন শাহ, দেবাশীষ পালিত, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ।

আরও খবর