রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আটকে পড়া পর্যটকের একটি দলকে উদ্ধার করেছে রাঙামাটি জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে রাঙামাটি বেড়াতে আসেন আট সদস্যের একটি পর্যটক দল। রাঙামাটি সদর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে সুবলং ঝরনায় পৌঁছায় তারা। সুবলং ঝরনা ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে কাপ্তাই হ্রদে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে কচুরিপানার ঝাঁকে তাদের নৌকাটি আটকে যায়। কচুরিপানা পেঁচিয়ে নৌকার পাখাটিও নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও কচুরিপানার ঝাঁক থেকে নিজেদের মুক্ত করতে না পেরে বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করে সাহায্য চায় তারা।

রাঙামাটি জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে ঘটনস্থালের কাছাকাছি অবস্থিত জারুলছড়ি পুলিশ ক্যাম্পে খবর পৌঁছালে ক্যাম্পের সদস্যরা পর্যটক দলটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। দা, শাবলের মাধ্যমে কচুরিপানার ঝাঁক কেটে তাদের উদ্ধার করে। পরে তাদের জারুলছড়ি পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৯টায় তাদের রাঙামাটি জেলা পুলিশ পরিচালিত রাঙামাটি পলওয়েল পার্কে আনা হয়।

উদ্ধার হওয়া পর্যটক দলের সদস্য এস এম রিয়াদ জিলানী বলেন, চারিদিকে যখন ঘোর অন্ধকার দেখছিলাম তখনই আলোর পথ দেখিয়ে আমাদের নতুন জীবন দান করল বাংলাদেশ পুলিশ। কাপ্তাই হ্রদে এভাবে কচুরিপানার ঝাঁকে আটকা পড়ে যাব কল্পনাও করতে পারিনি। জাতীয় জরুরি সেবা এবং রাঙামাটি পুলিশের প্রতি আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।

রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা থেকে রাঙামাটি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আমরা দ্রুত তাদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করি। পর্যটক দলটিকে উদ্ধারে জারুলছড়ি পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। জনগণের যেকোনো বিপদে ভবিষ্যতে পাশে থাকবে রাঙামাটি পুলিশ। রাঙামাটি বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে আরও সতর্ক হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

আরও খবর