বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আইনের নামে দেশে অপশাসন চলছে, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটাকে মাফিয়া রাষ্ট্র বললে ভুল হবে না। মাফিয়ারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা-অর্থ ভাগাভাগির মহোৎসবে মেতেছে। তারা দেশটাকে ভাগজোক করে খাচ্ছে। আর আমাদের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী সেই ভাগজোকেরই ভিকটিম।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন খসরু।

সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু বলেন, আসলাম চৌধুরী একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ, চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট, উচ্চশিক্ষিত ভদ্রলোক। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তার মতো একজন মানুষকে বিভিন্ন ভূয়া অভিযোগে শতাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।

সরকার তাকে কৌশলে আটকে রাখছে দাবি করে খসরু বলেন, জামিন নিতে গেলে সরকার বারবার সময়ের আবেদন করে। আদালত তিনদিন রিমান্ড দিলে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে দুইদিন হাতে রাখে, যাতে জামিনের আবেদনও করতে না পারেন। এভাবে শুধু সময়ের আবেদন করে আসলাম চৌধুরীকে অন্যায়ভাবে পাঁচবছর ধরে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার ধারা যদি আপনারা দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন, কত বড় মিথ্যাচার ও জুলুম আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে তাকে সরকার বলা যেতো। কিছু লোকের মাধ্যমে যখন ক্ষমতা দখল করা হয়, তখন সেটা রিজিম। আদালত-পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে কিছু লোম ক্ষমতা দখলের প্রজেক্ট করেছে। এই প্রজেক্টের খবরতো আলজাজিরার মাধ্যমে দেখেছে বিশ্ববাসী। আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে যে অন্যায় চলছে, সেটা একদিন আলজাজিরার মতো বিশ্বের সব সংবাদমাধ্যমে খবর হয়ে উঠে আসবে। এজন্য সরকারকেও জবাবদিহি করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ আজিজ, উত্তর বিএনপি জেলা নেতা ও চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘বাংলাদেশের সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্র করার’ অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানী ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আসলাম চৌধুরী। তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন। সর্বশেষ মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ৩ জানুয়ারি তাকে ঢাকার শাহবাগ থানার আট বছর আগের একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আরও খবর