হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য দলটি চাইলে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসা করাতে পারে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১১ জুন) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের আন্দোলনে খালেদা জিয়া মুক্ত হননি। শেখ হাসিনার উদারতা, মানবিকতায় খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে বাসায় আছেন। তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই। প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে চিকিৎসক আনুক, অসুবিধা নেই।’

বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনা নিয়ে বিএনপির নীতি ডাবল স্টান্ডার্ড (দ্বিচারিত) বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘অর্থপাচারের অভিযোগ আনবেন, আর যখন সে টাকা ফেরত আনবে, তখনও অভিযোগ করবেন, এটা তো আপনাদের ডাবল স্টন্ডার্ড (দ্বিচারিত)।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুলসহ দেশের একটি চিহ্নিত মহল ক্রমাগতভাবে দেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে। তাদের মন্তব্য যদি সত্য হিসেবে ধরে নিই, তাহলে ৭ শতাংশ কর দানের মাধ্যমে কেউ যদি বিদেশে পাচার করা টাকা দেশে ফিরে আনে তাহলে তো মির্জা ফখরুল সাহেবদের খুশি হওয়ার কথা।’

কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব আপনি কি ভুলে গেছেন, আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনৈতিকভাবে দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় অনৈতিক ও অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় দেড় কোটি কালো টাকা সাদা করেছিলেন এবং কর অফিসে জরিমানা হিসেবে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ জানে, কারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে। বেগম খালেদা জিয়ার দুই পুত্র দুর্নীতির টাকা সিঙ্গাপুর ও আমেরিকায় পাচার করেছে। পরবর্তী সময়ে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আংশিক টাকা দেশে ফেরত আনতে পেরেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. আবদুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল, আফজাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর