প্রতিবছর ঈদুল আজহার আগে বাজারে বিভিন্ন ধরনের মসলার বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় সুযোগ বুঝে মসলার দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। এবারও একই পরিস্থিতি, গরমমসলার দাম ‘গরম’।

পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ ১০ দিন আগেও এলাচি বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩৭৫ টাকায়। এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় এই মসলা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে।

আমদানিকারক ফারুক আহমদ জানালেন, শুধু এলাচি নয়, দাম বেড়েছে জিরা, লবঙ্গ, মৌরি, দারুচিনি এবং গোলমরিচেরও। ১০ দিনের ব্যবধানে প্রতিটি মসলায় ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।

দেশে গরমমসলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সামাজিক ও করপোরেট অনুষ্ঠান এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয়। ঈদুল আজহায়ও ঘরে ঘরে ব্যবহার বাড়ে। ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে আট ধরনের গরমমসলার চাহিদা বেশি। এগুলো হলো এলাচি, জিরা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, জায়ফল, জয়ত্রী ও তারকা মৌরি বা তারা মসলা। এসব মসলার পুরোপুরিই আমদানিনির্ভর।

বাংলাদেশ পাইকারি গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, ডলারের বিনিময় মূল্য বাড়ার কারণে ১০ দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু মসলার দাম বেড়েছে। তবে বিক্রি কমেছে। এ কারণে আগামী সপ্তাহের দিকে দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মসলার ৮২ শতাংশই আমদানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয় কমবেশি ১৮ শতাংশ।

বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৬৯৭ টন, ধনিয়া ২ হাজার ১৪৬ টন, এলাচি ২ হাজার ৯৮৩, লবঙ্গ ১ হাজার ৫৫১ টন, দারুচিনি ১২ হাজার ৯৬২ টন। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে জিরা আমদানি হয় ১৮ হাজার ৪১৫ টন, ধনিয়া ২ হাজার ৩০০ টন, এলাচি ৩ হাজার ৪০৪ টন, লবঙ্গ ১ হাজার ৮১১ টন, দারুচিনি ১০ হাজার ৬২৫ টন।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স আমেনা ট্রেডার্সের কর্ণধার নুরুল আজিম বলেন, ঈদের সময় দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ডলারের বিনিময় মূল্য কমে গেলে মসলার দামও কমে যাবে।

আরও খবর