‘ছুটি’ শেষ না করেই নিজের কর্মস্থলে ফেরার পরদিনই লাশে পরিণত হলেন মফিজুল ইসলামের। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক হোটেল শ্রমিকের এই মৃত্যুকে ‘ রহস্যজনক’ মৃত্যু দাবি করে শুক্রবার (১৩ আগস্ট) মিরসরাই থানায় নিহতের স্ত্রী আলেয়া বেগম একটি অপমৃত্যুর মামলাও করেন।

নিহত মফিজুল ইসলাম প্রকাশ আবুল কালাম নোয়াখালীর সোনাগাজী উপজেলার পালগিরি গ্রামের মাহিন কামলা বাড়ির আবুল হোসেনের পুত্র।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মফিজুল ইসলাম মিরসরাইয়ের সুফিয়া রোড গুলিস্তান ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন নাজিমের হোটেলে কাজ করতেন। ১০ আগস্ট ৫দিনের ছুটি নিয়ে কালাম বাড়িতে যায়। কিন্তু একদিন থেকে ‘ছুটি শেষ’ না করে ১২ আগস্ট কর্মস্থলে ফিরে আসেন। হোটেলের স্টাফ রুমে আবুল কালাম এবং তার আরেক সহকর্মী সোহাগ পাশাপাশি সিটে ঘুমান। দুপুর পর্যন্ত আবুল কালামের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে সোহাগ হোটেল মালিক নাজিম উদ্দীনকে জানান।

হোটেল মালিক এসে আবুল কালামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় মিরসরাই থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।

থানায় লিখিত অভিযোগে নিহতের স্ত্রী জানান, ‘পারিবারিক অভাব অনটনের কারনে ঝগড়া করে আবুল কালাম ১২ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে চলে আসেন। এরপর সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে যে কোন সময় তিনি মারা যান। হোটেল মালিক আমাকে জানিয়েছেন তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।’

লায়লা বেগম জানান, ‘আমার স্বামী ৫দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। হোটেল মালিক বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা ছিলো। টাকা না পাঠানোর কারণে একদিন থেকে চলে যায়। যাওয়ার পর হোটেলে পৌঁছে আমাকে ফোন করে। একজন মানুষ যদি বিষপান করে আত্মহত্যা করে তার পাশে ঘুমানো ছিলো হোটেল শ্রমিক সোহাগ সে জানে না এটি কেমন আত্মহত্যা। এখন হোটেলের মালিক নাজিম উদ্দীন প্রচার করছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার কারণে আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে। এটি মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছে হোটেল মালিক নাজিম উদ্দীন। আমি আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে এ ধরনের কোন লিখিত বক্তব্য থানায় দি নাই। থানায় পুলিশ আমার থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিলো। সেখানে তারা কি লিখেছে সেটা তো জানি না।’

হোটেল মালিক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আবুল কালাম দুইদিন আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে যায়। একদিন থেকে চলে আসছে। এসে সকালে আমার সাথে দেখা করে স্টাফ রুমে চলে যায় ঘুমানোর জন্য। আমি রাতে ডিউটি করি। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।’

মিরসরাই থানার পরিদর্শক (অপারেশন) দিনেশ দাশ গুপ্ত বলেন, হোটেল শ্রমিক মফিজুল ইসলাম প্রকাশ আবুল কালামের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও খবর