চট্টগ্রামে মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। মৃত্যুর সংখ্যাও আগের দিনের তুলনায় ১ জন কমেছে। ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ৩০০ এর নিচে। নতুন করে ২৬৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) প্রতিবেদনে চট্টগ্রামে একদিনে ৩০৬ জন আক্রান্ত হয়েছিল। গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রামে একদিনে রেকর্ড ১ হাজার ৪৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছিল।

শুক্রবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলার করোনা সম্পর্কিত এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ জুলাই চট্টগ্রামে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরদিন ২৮ জুলাই এ সংখ্যা দাড়ায় ১৭ জন। ২৯ জুলাই ১৭ জন এবং তার আগে গত ২০ জুলাই ১৫ জন এবং ১১ জুলাই ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। তাছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) একদিনে ৭ জনের মৃত্যু হয় করোনার বিষে।

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে নগরীতে ২ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে মারা গেছে আরো ৪ জন। আগের দিন চট্টগ্রামের উপজেলা পর্যায়ে ৩ জন এবং নগরীতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮২ জন চট্টগ্রাম নগরের। আর বিভিন্ন উপজেলায় মারা গেছেন ৫২৭ জন।

এদিকে আগের দিনের তুলনায় নমুনাও কিছুটা কমেছে। সিভিল সার্জন থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার হাসপাতাল ল্যাব, চট্টগ্রামের ৯টি ল্যাব এবং এন্টিজেন টেস্টসহ মোট ১ হাজার ৬৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর আগের দিন এ সংখ্যা ছিলো ১ হাজার ৭৭৭ জন।

গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ২৬৯ জন। আগের দিন আক্রান্ত সংখ্যা ছিল ৩০৬ জন। নতুন করে যাদের করোনা পজেটিভ এসেছে তার মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ১২১ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ১৪৮ জন রয়েছেন।

চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮ হাজার ৫৩৭ জন। মোট শনাক্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৭১ হাজার ৭৫৫ জন। আর জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৬ হাজার ৭৮২ জন রয়েছেন।

গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলা পর্যায়ে যারা আক্রান্ত হয়েছেন এর মধ্যে হাটহাজারীতে সবচেয়ে বেশি ৩০ জন শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া, রাউজানে ২৭ জন, সাতকানিয়ায় ১৭ জন, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীতে ১৪ জন করে, আনোয়ারায় ১১ জন, লোহাগাড়ায় ১০ জন, বোয়ালখালীতে ৯ জন, চন্দনাইশে ৭ জন, সীতাকুণ্ড ও পটিয়ায় ৪ জন করে এবং সন্দ্বীপে ১ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়। তবে, এদিন রাঙ্গুনিয়া ও মিরসরাইয়ে কোন করোনা রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৮০ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ২৪ জনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। এদিন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ১৪ জনের পজেটিভ আসে।

একই সময়ে চট্টগ্রাম ভেটেনারি ও এনিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবেও ৪৭ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবেও নতুন করে ৪৮ জনের পজেটিভ আসে। এদিন ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ০৬ জনের পজেটিভ আসে।

গত ২৪ ঘন্টায় জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ল্যাবে ০৮ জনের করোনা পজেটিভ আসে। এদিন এন্টিজেন টেস্ট এ ১৫ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে। মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ০৫ জনের করোনা পজেটিভ আসে।

এদিন শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ১২ জনের পজেটিভ আসে। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ১০ জনের এবং ইপিক হেলথ কেয়ার ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

আরও খবর