গত আগস্ট মাসের শেষের দিক থেকে চট্টগ্রামে করোনার স্বস্তির হাওয়া বইলেও বাজারে ফেরেনি স্বস্তি। উল্টো দাম বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য-দ্রব্যের। গত সপ্তাহের তুলনায় বাড়তি দামের খাতায় যোগ হলো মুরগি, আটা, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য। সরকার নির্ধারিত নতুন দরে চিনি বিক্রি হবে— ক্রেতাদের সে আশাও গুড়েবালি। খুচরা বিক্রেতারা চিনি বিক্রি করছেন আগের দরেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সয়াবিন তেলের দামে গত জুন মাসে দেওয়া লিটারপ্রতি চার টাকা ছাড় তুলে নিয়েছে বিপণনকারী কোম্পানিগুলো। ফলে লিটারপ্রতি ৪ টাকা বেড়েছে তেলে। এদিকে আজ থেকে সরকার নির্ধারিত নতুন দরে খোলা চিনি ৭৪ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ৭৫ টাকায় বিক্রি করার কথা থাকলেও বিক্রেতারা ৮০ টাকা কেজিতেই বহাল রয়েছেন।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) নগরের রিয়াজউদ্দীন বাজার ও কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহ খানেক আগে ১৪৯ টাকা লিটারপ্রতি বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেল আজ ১৫৩ টাকা, ১২৫ টাকার খোলা তেল ১২৮ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১১০ টাকায় বিক্রি হওয়া পাম তেল ১১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বেড়েছে আটার দামও। প্রতিকেজি আটায় ২ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, আমদানি রসুন ১২০, দেশি আদা ৭০ টাকা, আমদানি করা আদা ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা নুরুল ইসলাম বলেন, বাজারে কোন পণ্যেই স্বস্তি নেই। তেল, চিনির দামও বাড়তি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় যাবো?

এদিকে সবজির দরে খুব একটা হেরফের হয়নি। বাজারে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। পটল ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, টমেটো ১শ’ টাকা, কচু ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা। ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেঁড়স। ২০ থেকে ২৫ টাকায় আলু। আর ২০ টাকায় পেঁপে। শসার দাম ঠেকেছে ৫০ টাকায়। কাঁচকলার হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা। কচুর গাট বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

তাছাড়া প্রতিকেজি তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই-কাতলা আকারভেদে ২৪০ টাকা, মৃগেল ২২০ টাকা, পাবদা আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬শ’ টাকা, পাঙাশ ১৩০ থেতে দেড়শ টাকা, রূপচাঁদা আকার ভেদে সাড়ে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা, শিং মাছ ৫শ’ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির দাম। গত সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা, সোনালী মুরগি ২২০ টাকা, দেশি মুরগি ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া আগের দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৬শ টাকা, আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮শ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

আরও খবর