চট্টগ্রাম আদালত ভবনে পুলিশ চেক পোস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলা মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ (৩ অক্টোবর)। চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে গত ২১ সেপ্টেম্বর। সে দিনই আদালত মামলার রায়ের জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করেন। এই মামলায় পাঁচজন অভিযুক্ত হলেও তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি হয়। এক আসামি ফেরারি আর অপর আসামি কারাগারে আছেন।

সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মনোরঞ্জন দাশ জানান, মামলায় ৩২ জনের সাক্ষী আদালতে হাজির করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আলামত জব্দের মধ্য দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আমরা এই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের পুলিশ চেক পোস্টের সামনে বোমা হামলা চালালে পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও ফুটবলার শাহাবুদ্দীন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ কনস্টেবল আবু রায়হান, সামসুল কবির, রফিকুল ইসলাম, আবদুল মজিদসহ ১০ জন আহত হন। আজ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ১০ মাস পর নিষ্পত্তি হতে চলেছে চাঞ্চল্যকর এই মামলা।

বোমা হামলার ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের হয়েছিল। পরের বছর ২০০৬ সালের ১৮ মে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ও বোমা তৈরির কারিগর জাহিদুল ইসলাম প্রকাশ বোমারু মিজান, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই এবং জেএমবির সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে অন্য একটি মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাই ও সানির ফাঁসির আদেশ হওয়ায় তাদের তিনজনকে এই মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। মামলায় একমাত্র জাবেদ ইকবাল কারাগারে আটক আছেন।

বোমা মিজানসহ তিনজন জঙ্গীকে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে হাজিরা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহের আদালতে নেওয়ার পথে ত্রিশাল এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় অন্য জঙ্গিরা। এরপর বোমা মিজান আটক হয় ভারতের পুলিশের হাতে। তিনি ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে

জাবেদ ও মিজানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে বিচারকের এজলাসে বোমা হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় ২০১৭ সালে সাত বছর করে ১৪ বছরের কারদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেই ঘটনায় তাদের সঙ্গী আরেক জঙ্গী শাহাদাতেরও একই সাজা হয়েছিল।

বোমারু মিজানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ৪০টি মামলা আছে যার প্রায় অর্ধেক মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট মামলাগুলোর বিচার কাজ চলছে। একাধিক মামলায় বোমা মিজানের যাবজ্জীবন সাজাও হয়েছে।

আরও খবর