চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জায়গা দখল করতে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলসহ কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন। এ সময় ভয়ভীতি দেখাতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়েন তারা।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা আমিরাবাদ ইউনিয়নের মা-মনি হাসপাতালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই এলাকার মাহমুদুল হকের পুত্র প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম (৪০)।

তিনি জানান, প্রায় ৬ বছর যাবত তাদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর এ পর্যন্ত চারবার হামলা করেছে বাবুল।

তাদেরকে বিরোধীয় জায়গা সংলগ্ন বসতঘর থেকে উচ্ছেদ করার হুমকিও দিয়ে আসছে বার বার।

ঘটনার দিন উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী ও ভাতিজা ইনজামামুল হক যুবরাজের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে বিরোধীয় জায়গা দখলের চেষ্টা করে। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের বসতঘর লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের জায়গায় যেতে সামনে তাদের কিছু জায়গা আছে। পেছনের জায়গাটি জিয়াউল হক চৌধুরী এস আলম গ্রুপকে বিক্রি করেছে বলে শুনেছি। ওই জায়গায় যেতে রাস্তা হিসেবে তাদের মৌরছি জায়গাটিও বিক্রি বা ছেড়ে দেয়ার জন্য একাধিকবার বিভিন্নভাবে চাপ দেয় বাবুল কিন্তু তারা জায়গাটি ছেড়ে দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পরিবারের ওপর উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়।

তিনি জানান, এছাড়াও এর পূর্বে জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল বোয়ালিয়া খালের গতিপথ পরিবর্তন করে তাদের দখলী মৌরছি জায়গার উপর প্রবাহিত করেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় তাদের ওপর জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের নেতৃত্বে হামলা করার আশংকা প্রকাশ করছেন। ঘটনার সময় থানা পুলিশকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে বাবুল গ্রুপের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যাবার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

এদিকে, জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের অস্ত্র হাতে নিয়ে মহড়া দেয়া ও তার সাথে থাকা একজন লোকের ফাঁকা গুলি ছোড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক দেয়া গিয়েছে।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী জায়গা দখল করতে গিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়ার খবরটি জেনেছি। তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।

প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, ব্যক্তিগত অধিকার ও নিজের ধন-সম্পদ রক্ষার জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়। তবে তিনি ওখানে কতটুকু নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গেছেন তা তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে।

লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল বলেন, জায়গাটি আমি এস আলম গ্রুপকে বিক্রি করেছি। জায়গাটাতে সীমানা দেয়াল দিতে গেলে মাহমুদুল হক গং কিরিচ নিয়ে আমাদের আক্রমণ করতে আসলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের ধাওয়া করে। জনসম্মুখে প্রদর্শন করা অস্ত্রটা লাইসেন্স করা।

এটি তার নিরাপত্তার জন্য তার সাথে থাকে বলে জানান তিনি।

আরও খবর