ফটিকছড়ির আলোচিত নেছার আহমেদ প্রকাশ তোতাকে জবাই করে হত্যার মামলায় ল্যাডা নাছিরসহ নয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আদালত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।

সোমবার (৮ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত দায়রা জজ ফারজানা আক্তার এই আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিরা হলেন নাছির প্রকাশ ল্যাডা নাছির, মোহাম্মদ শাহীন, বাবুল, নুরুল ইসলাম, মো. জোবায়ের, মো. দিদার, আবু বক্কর, মোহাম্মদ ইসমাইল ও মো. জঙ্গু। রায় ঘোষণার সময় শুধু শাহীন আদালতে হাজির ছিলেন। বাকীরা পলাতক।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রাঙামাটিয়া গ্রামের নেছার আহমেদ প্রকাশ তোতাকে ২০০৩ সালের ১ নভেম্বর গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী মোর্শেদা আকতার বাদি হয়ে ফটিকছড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নেছার আহমেদ দুবাই প্রবাসী ছিলেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় জেল খেটে ২০০৩ সালে তিনি দেশে ফেরত এসে আর যেতে পারেননি। একই গ্রামের জনৈক এজাহার মিয়ার কাছে তিনি পাঁচ হাজার টাকা পেতেন। বারবার ধর্ণা দিয়েও সেই টাকা উদ্ধার করতে পারেননি নেছার। তার সঙ্গে এলাকার সন্ত্রাসী ল্যাডা নাছির ও তার সহযোগীদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। ল্যাডা নাছির কৌশলে সেই টাকা উদ্ধারের কথা বলে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। নেছার তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করেন। ২০০৩ সালের ১ নভেম্বর বিকেল ৫টার দিকে এজাহার মিয়ার কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের কথা বলে নেছারকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ল্যাডা নাছিরসহ অন্য আসামিরা।

নেছার রাতে ঘরে ফিরেননি এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নেছারের স্ত্রী মোর্শেদা স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দক্ষিণ রাঙামাটিয়া গ্রামে একটি পাহাড়ের পাদদেশে সড়কে তার স্বামীর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত করে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৪ সালের ১৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগ গঠনের পর রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জনের সাক্ষ্য নেন।

বিচার চলাকালে নাছির নামে একজন মারা যান। আদালতে তাকে অব্যাহতি দেয়। দশজনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩০২ বা ৩৪ ধারায় আদালত প্রত্যেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আরও খবর