কোপা আমেরিকায় শিরোপাজয়ের পর প্রথম ম্যাচ, তাতে জয়ের প্রত্যাশা স্বাভাবিক। সেটা আর্জেন্টিনা পূরণ করেছে ভালোভাবেই। ভেনেজুয়েলাকে তাদের মাটিতে হারিয়েছে ৩-১ গোলে। তাতে ‘নতুন দিনের শুরুতে’ আলবিসেলেস্তেরা দিলো বদলে যাওয়ার আভাসও।

‘নতুন দিনের শুরু’, ম্যাচের আগে আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যমে সুরটা ছিল এমনই। দীর্ঘ ২৮ বছর মহাদেশীয় শিরোপা জিতেছে দল, তার পর প্রথম ম্যাচ। সেই সুবাদে গায়ে উঠেছে নতুন এক ‘প্যাচ’, সোনা রঙা একটা ব্যাজ, তাতে খোদাই করা কোপা আমেরিকার প্রতিকৃতি। এমন কিছু যে আকাশী সাদা জার্সিতে ছিল না দীর্ঘদিন!

সেই নতুন দিনের শুরুতে দলও খেলেছে বদলে যাওয়া ঢঙয়ে। অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন বটে, কিন্তু ছিলেন না চেনা রূপে। গোল তো করেনইনি, করাতেও পারেননি, চোখ ধাঁধানো ড্রিবলে ছিটকে দিচ্ছিলেন না প্রতিপক্ষকে। গোল তিনটির দুটোতে পরোক্ষ অবদান আছে, তবে সেটা কোনোভাবেই মেসিসুলভ নয়। কোপা জয়ের পর দীর্ঘ ছুটি, এরপর নানা জটিলতা, ক্লাব ছাড়া, নতুন জীবনে থিতু হওয়া, এরপর মাত্র ২৪ মিনিট খেলে আসার ছাপটা ছিল স্পষ্ট। তবে মেসির নিস্প্রভ দিনেও প্রতিপক্ষের মাটিতে আধিপত্য বিস্তার করেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। এমন কিছু তো ‘পুরোনো’ দিনে ছিল অচেনাই!

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের এস্তাদিও অলিম্পিকোয় শুরু থেকেই ছড়ি ঘুরিয়েছে স্ক্যালোনির শিষ্যরা। ৩১ মিনিটে মেসিকে ফাউল করে ভেনেজুয়েলা ডিফেন্ডার আদ্রিয়ান মার্টিনেজ যখন লাল কার্ড দেখলেন, এরপর তো আরও বেশি। এতটাই যে, ৩১ থেকে প্রথমার্ধের শেষতক ৮১ শতাংশ সময় বলের দখলে ছিল আলবিসেলেস্তেরা।

তবু গোল যেন দেখা দিচ্ছিল না মোটেও। তাতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৩ ম্যাচে প্রথমার্ধে গোল করার ‘অভ্যেস’টা ভেঙে যাবে, মনে হচ্ছিল তেমনই। কিন্তু শেষমেশ সে ‘অভ্যেস’টা ধরে রাখলেন লাওতারো মার্টিনেজ। জিওভানি লো চেলসোর বাড়ানো বলে তার দারুণ প্লেসমেন্ট বিরতির আগে এগিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে।

বিরতির আগে বলের দখলে ছিল আর্জেন্টিনার আধিপত্য। দৃশ্যটা দ্বিতীয়ার্ধেও পাল্টায়নি খুব। তবে প্রতি আক্রমণে ভেনেজুয়েলা দুয়েকবার জানান দিয়ে গেছে, এক গোলের লিড খুব বড় কিছু নয়। তাই জয় নিশ্চিত করতে আরও অন্তত একটা গোলের দরকার ছিল স্ক্যালোনির দলের।

সেই গোলটা এল বদলি হিসেবে মাঠে আসা হোয়াকিন কোরেয়ার কল্যাণে। মেসির কাছ থেকে পাওয়া বলে লাওতারো হয়ে বলটা যায় তার কাছে, বক্সের একটু ভেতরে থেকে তার জোরালো শট গিয়ে আছড়ে পড়ে ভেনেজুয়েলার জালে। দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে চালকের আসনে চলে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

তৃতীয় গোলের দেখাও পেতেও খুব একটা সময় লাগেনি স্ক্যালোনির দলের। সেটা এলো আরেক কোরেয়ার পা থেকে। মেসির পাস থেকে লাওতারো শট করেছিলেন, সেটা ভেনেজুয়েলা গোলরক্ষক সামলালেও আয়ত্বে রাখতে পারেননি, ফিরতি চেষ্টায় আনহেল কোরেয়া জালে পাঠান বলটা। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

স্ক্যালোনির অধীনে এমন পরিস্থিতিতে বেশ রক্ষণাত্মক হয়ে পড়াটাই এতদিন ছিল আকাশী সাদাদের নিয়তি। কিন্তু এদিন বদলে যাওয়ার আভাস দিয়ে আলবিসেলেস্তেরা আক্রমণ করেছে শেষ পর্যন্ত। গোলরক্ষক যদি গোটা ছয়েক সেভ না দিতেন, তাহলে সংখ্যাটা বাড়তে পারত আরও।

ওদিকে পুরো ম্যাচে ভেনেজুয়েলা লক্ষ্যে শটই নিয়েছে দুটো। তাই গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে খুব একটা ব্যতিব্যস্ত সময় কাটাতে হয়নি এদিন। তবে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে নিশ্চিত ক্লিনশিটটা হাতছাড়া হয়ে গেছে তার। সেজন্যে কিছুটা আফসোস থেকে যেতে পারে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের। তবে সে আফসোস আর্জেন্টিনার খুব একটা থাকার কথা নয়। দারুণ জয় নিয়ে ‘নতুন দিনের শুরু’ তো বটেই, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ড্রয়ের বৃত্ত থেকেও যে বেরিয়ে এসেছে দলটি।

আরও খবর