করোনার টিকা নিতে নিবন্ধন করা হলেও মোবাইল ফোনে এসএমএস আসছে না। দুই মাস আগে নিবন্ধন করলেও এসএমএস পাচ্ছেন না কেউ কেউ। এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সক্ষমতার চেয়ে বেশি নিবন্ধন হওয়ায় মোবাইল ফোনে এসএমএস পেতে সমস্যা হচ্ছে।

৮ সেপ্টেম্বর কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম এ কথা বলেন।

যেসব টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে সেসব কেন্দ্রের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি নিবন্ধন করা হয়েছে। যার কারণে মোবাইল ফোনে এসএমএস পেতে সমস্যা হচ্ছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে জানিয়ে ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সমাধান করতে কিন্তু বাস্তবতা হলো একটি কেন্দ্রে একদিনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকা দেওয়া যায়। আর তার চেয়ে বেশি টিকা দিতে গেলে হয়তো আমাদের অনেক কিছু আপোস করতে হবে।

আর সেখানে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি আছে, তবে সেসব সমস্যা সমাধান করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, সহসা আমরা আশার বাণী শোনাতে পারব।

সারাদেশের এই চিত্র থেকে ব্যাতিক্রম নয় চট্টগ্রামও। দেশের বাণিজ্যিক এই রাজধানীতে অনেকেই দিনের পর দিন অপেক্ষার পরও টিকা গ্রহণের এসএমএস পাচ্ছেন না।

প্রায় দেড় মাস আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকার জন্য নিবন্ধন করেন তারেকুল হক। তিনি জানান, ‘জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে টিকার জন্য আবেদন করেছি। এখনো পর্যন্ত কোনো এসএমএস আসেনি। অথচ অনেককে দেখছি, তারা আমার পরে রেজিস্ট্রেশন করেও টিকা নিয়েছেন।’

একই অবস্থা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নিবন্ধনকারী মিনহাজ উদ্দিনেরও। তিনি প্রায় দুইমাস আগে টিকার জন্য নিবন্ধন করলেও এখনো টিকা পাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা তো নিবন্ধন করছি। এসএমএস ছাড়া টিকা দিলে কী হয়? এসএমএস পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। কিন্তু এখনো পাইনি। অনেকে পরিচিত থাকার কারণে পরে নিবন্ধন করেও টিকা নিয়েছে। আমি কবে টিকা দেবো কে জানে!’

এ বিষয়ে টিকাকেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ভাষ্য হচ্ছে, ‘বয়স্কদের অগ্রাধিকার দিয়ে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদেরও অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এখানে অন্য কোনো ধরনের ছল-চাতুরি নেই। পর্যায়ক্রমে টিকা সবাই পাবে।’

আরও খবর