দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিমা ও পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা, ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে গণ-অনশন, গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এতে বক্তারা দুর্গাপূজা চলাকালে বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ ও হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে হামলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের বিচার করতে হবে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ডাকে শনিবার (২৩ অক্টোবর) আন্দরকিল্লা মোড়ে ভোর ৬টা থেকে নগর ও উপজেলা হতে বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের সদস্যরা ব্যানার–ফেস্টুন নিয়ে মিছিলসহ সমবেত হয়।

অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে’র সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, জাসদ নেতা ইন্দু নন্দন দে, অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি শ্যামল পালিতসহ বিভিন্ন মঠ, মন্দির পরিচালনা পরিষদের নেতারা।

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এএইচএম জিয়া উদ্দিন।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুষ্পষ্ট নির্দেশনার পরও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও অবহেলা করেছেন এবং যেসব জনপ্রতিনিধি সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় এগিয়ে আসেননি, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি উসকানি দাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে।

শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি, ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দান, ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির, ঘরবাড়ি পুনঃনির্মাণ, গৃহহীনদের পুনর্বাসন, ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইনের দ্রুত বাস্তবায়নসহ ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে প্রদত্ত অঙ্গিকার দ্রুত বাস্তবায়ন করাসহ ১১ দফা জানানো হয়।

এসব দাবি পূরণ না হলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণাও দেন রানা দাশগুপ্ত। দুপুর ১২টার পর সমাবেশ শেষে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

আরও খবর