১৫৭ টি-টোয়েন্টিতে মাঝারি মানের স্কোরই। এ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উইন্ডিজ উইকেটও হারায়নি তেমন। তবু পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম লড়াইয়ের শেষ পাঁচ ওভারে ক্যারিবীয়দের দরকার ছিল ওভারপ্রতি ১৫ এর কাছাকাছি রান। কারণ, কিপটেমির রেকর্ড যে ছুঁয়ে ফেলেছিলেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ।

তার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে ভর করে পাকিস্তান রুদ্ধশ্বাস এক লড়াই শেষে পেয়েছে ৭ রানের জয়। তাতে উইন্ডিজ সফরের শুরুটাও বেশ ভালোভাবেই করল বাবর আজমের দল।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ানের কল্যাণে দারুণ এক সূচনা পায় পাকিস্তান। রিজওয়ানকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন শারজিল খান। পঞ্চম ওভারে ফেরেন তিনি। ৪৬ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।

এরপর বাবরকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের দিশা দেখাচ্ছিলেন রিজওয়ান। উইকেটে ছিল স্পিনারদের প্রতি সহায়তা। সেটা কাজে লাগিয়ে উইকেট শিকার না হলেও দুজনকে চড়েও বসতে দেননি উইন্ডিজ স্পিনাররা। ৪৭ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে রিজওয়ান-বাবরের এই জুটি।

তবে এর কিছু পরেই ফেরেন রিজওয়ান। তার রান আউটে কাটা পড়ে ৬৭ রানের এই জুটি। পরের ওভারেই বাবর পঞ্চাশে পৌঁছান ৩৮ বলে। এরপর ম্যাচে বৃষ্টির বাগড়া। কিছু পরে বৃষ্টি শেষে মাঠে ফিরে খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। ফলে দুই উইকেটে ১৩৪ রান থেকে ইনিংস শেষ করে মাত্র ১৫৭ রান নিয়ে। হারায় আরও ছয়টি উইকেট।

জবাবে উইন্ডিজকে শুরু থেকেই চেপে ধরেছিলেন হাফিজ। দ্বিতীয় বলেই শিকার করেন আন্দ্রে ফ্লেচারকে। বোলিংয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করা এই স্পিনার পাওয়ারপ্লেতে বল করেছেন তিনটি ওভার। তাতে রান দিয়েছেন মাত্র ৫টি! এর ফলে পাওয়ারপ্লেতে এভিন লুইস আর ক্রিস গেইল উইকেটে থাকার পরেও উইন্ডিজ ডট দেয় ২২টি!

অন্য দিকে শাহিনশাহ আফ্রিদি কিছুটা খরুচেই ছিলেন। তবে পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে আক্রমণে এসে সেটা পুষিয়ে দেন হাসান আলি, ফেরান গেইলকে। এরপর শিমরন হেটমায়ার উইকেটে থিতু হয়ে আশা দেখাচ্ছিলেন উইন্ডিজকে, কিন্তু তিনিও ফেরেন বড় ইনিংস না খেলেই।

এ অবস্থায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লুইসকে নিতে হতো দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব, কিন্তু তিনিও পেশিতে টান নিয়ে উঠে যান সাজঘরে। যদিও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সফল এই ব্যাটসম্যান এদিন ৩৫ রান করেছিলেন ৩৩ বল খেলে। এর ফলে ম্যাচ যত এগিয়েছে, শুরুর চাপটা কেবল বেড়েই চলছিল উইন্ডিজের ওপর। এক পর্যায়ে উইন্ডিজের দরকার ছিল ৫ ওভারে ৭৪।

তখনই যেন টনক নড়ে উইন্ডিজের। পুরান রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে দেন পাকিস্তানি বোলারদের ওপর। তবে অপর দিক থেকে সাহায্য আসছিল না তেমন, কাইরন পোলার্ড করেছেন ১৪ রান, খেলেছেন ১৩টি বল। ফলে শেষ পাঁচ ওভারে ৬৬ রান তুলেও বিজিত দলেই থাকতে হয় পুরানকে, উইন্ডিজকেও।

৪-১-৬-১, এমন বোলিং বিশ্লেষণের পর মোহাম্মদ হাফিজকে ম্যাচসেরার পুরষ্কার দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। শেষমেশ পুরষ্কারটা উঠেছে তার হাতেই। তবে এমন বোলিংয়ে একটা রেকর্ডও হয়ে গেছে তার। আইসিসির শীর্ষ দলগুলোর টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে সবচেয়ে কিপটে বোলিংয়ের দিক থেকে লাসিথ মালিঙ্গাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি। ২০১৯ সালে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার ওভারে ছয় রান দিয়েছিলেন ‘মালি’। সে রেকর্ড এখন ভাগ বসেছে হাফিজেরও।

প্রথম ম্যাচে জয় নিয়ে পাকিস্তান উইন্ডিজ সফরটা শুরু করল ভালোভাবেই। দ্বিতীয় ম্যাচে আজ রাত নয়টায় আবারও মাঠে নামবে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৫৭/৮ (শারজিল ২০, রিজওয়ান ৪৬, বাবর ৫১; হোল্ডার ২৬-৪, ব্রাভো ২৪-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (লুইস ৩৫, গেইল ১৬, হেটমায়ার ১৭, পুরান ৬২*, পোলার্ড ১৩; হাফিজ ৬-১, আফ্রিদি ৪৪-১, হাসান ৩২-১, ওয়াসিম ৩২-১)
ফল: পাকিস্তান ৭ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: মোহাম্মদ হাফিজ

আরও খবর