কক্সবাজার টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে অর্জিত অর্থে গড়া তাঁর ছয়তলা বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট—কিছুই নিজের কাছে রাখতে পারেননি। আজ বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুনসী আবদুল মজিদ রায়ে রাষ্ট্রের অনুকূলে এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, অবৈধ এসব সম্পদ নিজের কাছে রাখতে স্ত্রী চুমকি কারনের নামে নেন প্রদীপ। গৃহিণী হয়েও তাঁর স্ত্রী ভুয়া মৎস্য চাষ দেখান। এমনকি নিজের ঘুষের টাকায় তৈরি ছয়তলা বাড়িটি শ্বশুরের দান করা দাবি করেন প্রদীপ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির এসব সম্পদ রক্ষা করতে পারলেন না। দুদকের তদন্ত ও সাক্ষ্যে দুর্নীতির সব বিষয় উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম কোতোয়ালি মোড় থেকে আধা কিলোমিটার গেলেই ‘লক্ষ্মীকুঞ্জ’ নামের ছয়তলা একটি বিলাসবহুল বাড়ি। এটির চতুর্থ তলায় দরজার পাশে দেয়ালে দারুশিল্পের কারুকাজ। সেখানে লেখা রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ নিয়ে লেখা জীবনানন্দ দাশের কবিতার কয়েকটি লাইন। ‘শিব-সুন্দর-সত্যের লাগি শুরু করে দিলে হোম, কোটি পঞ্চমা আতুরের তরে কাঁপায়ে তুলিলে ব্যোম, মন্ত্রে তোমার বাজিল বিপুল শানি স্বস্তি।’ বাসায় ঢোকা ও বের বের হওয়ার সময় সবার চোখ পড়ছে ওই লেখায়। অথচ কবির এই পঙ্‌ক্তি যেন পরিহাসে পরিণত হয়েছে আজ। কক্সবাজারের টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বাড়ির দরজায় লেখা কবির এই সত্যবাণী লোকদেখানো?

লক্ষ্মীকুঞ্জের আশপাশের বাসিন্দারাও এমন মত দিলেন। নগরের পাথরঘাটা আর সি চার্চ রোডের বাড়িটির খোঁজ নিতে গেলে এলাকার লোকজন চিনিয়ে দিলেন। বাড়িটি এলাকায় সবার কাছে পরিচিত। বাড়ির নাম ‘লক্ষ্মীকুঞ্জ’ হলেও সবাই চেনে ওসি প্রদীপের বাড়ি বলে।

আরও খবর