করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও সংকটাপন্ন রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) উদ্ভাবিত যন্ত্র অক্সিজেটের সীমিত আকারে উৎপাদন ও ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর।

প্রায় ১০ মাস গবেষণার পর সিপ্যাপ ভেন্টিলেটর যন্ত্র আবিষ্কার করেন বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি দল। যার নাম দেওয়া হয় “অক্সিজেট”।

গত মে মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অক্সিজেটের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়। এই যন্ত্র কোনো বিদ্যুৎশক্তি ছাড়াই অক্সিজেন সিলিন্ডার বা হাসপাতালে অক্সিজেন লাইনের সঙ্গে যুক্ত করে হাই-ফ্লো নেজাল ক্যানোলার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোর সাধারণ বেডে রোগীকে সর্বোচ্চ (০-১৫) লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া যায়। এর বেশি অক্সিজেনের দরকার পড়লে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা লাগে অথবা আইসিউতে নিতে হয় রোগীকে। অক্সিজেট নামের ডিভাইসটি দিয়ে হাসপাতালের সাধারণ বেডেই ৬০ লিটার পর্যন্ত হাই-ফ্লো অক্সিজেন দেওয়া যাবে।

কোভিড মহামারী পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা পাওয়া যায় না। এ ধরনের যন্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর জন্য চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। আর এই ডিভাইসটির খরচ পড়বে মাত্র ২০-২৫ হাজার টাকা। এছাড়া এই যন্ত্রটি ব্যবহার কৌশল সহজ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন স্থানে সহজে বহনযোগ্য, কোন বিদ্যুৎও লাগে না।

অক্সিজেট আইসিইউতে রোগী ভর্তির চাপ কমাবে। যন্ত্রটি অক্সিজেন সিলিন্ডারে ব্যবহার করলে রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন বাড়বে প্রায় ১২ ভাগ, যা রোগীর জন্য হতে পারে অনেক স্বস্তিদায়ক। ইতোমধ্যে যন্ত্রটি বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) অনুমোদন নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে তৃতীয় ধাপও সম্পন্ন করেছে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে যন্ত্রটির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের জন্য মোট ৪০ জন রোগীর অর্ধেক অংশকে অক্সিজেট সি-প্যাপ এবং বাকি অর্ধেক অংশকে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, ফলাফল আশাজাগানিয়া। যন্ত্রটি স্বল্প পরিসরে উৎপাদন ও প্রয়োগের (প্রায় ২০০ টি) অনুমতি পেয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে – বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অক্সিজেট উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়া বুয়েটের জৈব-চিকিৎসা প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তওফিক হাসান ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মুখপাত্র মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আরো বড়ো স্কেলে ট্রায়াল চালিয়ে নিখুঁত ডিজাইনে কার্যকরী ডিভাইস তৈরির নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

সূত্র: ওষুধ প্রশাসন ও বুয়েট।

আরও খবর