খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (৬ জুন) সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে, বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হবে। শুল্কমুক্তভাবে যেন আনা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে করে কৃষক, বাজার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে।’

চাল আমদানির সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এরপর পরবর্তী যা করণীয় তা করা হবে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বাজার মনিটরিং করছি, তাতে মূল্য নিম্নমুখি। তারপরও ভোক্তা এবং কৃষকদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেটাকে ব্যালেন্স করতে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের দিক থেকে তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করবো। তবে এটা হবে সীমিত সময়ের জন্য, সীমিত পরিমাণে। আগামী মৌসুমে যাতে কৃষকের ক্ষতি না হয়, সেটা বিবেচনা করে। আমাদের প্রচুর বেসরকারিভাবে গম আমদানি হতো, সেটা খাদ্যে একটি সাপোর্ট দিতো। এটা না আসাতে মানুষ এখন চালের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে। আমাদের উৎপাদন ঠিক আছে, কিন্তু চালের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার ফলে মজুদদার ও অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। সার্বিকভাবে নজরদারি ও অভিযান চলতে থাকুক, পাশাপাশি আমরা বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করে প্রবাহ বাড়ালে বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বেশি মজুত না রাখলে প্যাকেটজাত চালে সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্যসচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম। সচিব বলেন, ২০১১ সালে আমাদের আদেশ আছে, যেটা ২০২০ সালে আমরা কারেকশন করে দিয়েছি, যে মিলাররা কতটুকু চাল রাখতে পারবে বা ২০১১ সালের আদেশ আছে আড়ৎদার কতটুকু মজুত রাখতে পারবে। এক মেট্রিকটনের অতিরিক্ত যদি মজুদ রেখে আপনি ব্যবসা করতে চান, অবশ্যই আমাদের লাইসেন্স নিতে হবে। আমরা এখন আমাদের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাদের লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসছি। ব্যবসা করুক কিন্তু এক মেট্রিকটনের অতিরিক্ত মজুত করতে গেলেই লাইসেন্স নিতে হবে।

আরও খবর