মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে চান।

রোববার (১৯ জুন) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পের পাশের এক সমাবেশে নিজ মাতৃভূমে ফেরার দাবি জানান রোহিঙ্গারা।

‘গো হোম’ ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে মোট ১৯টি দাবি জানান কক্সবাজারে আশ্রিত শরণার্থীরা। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান রোহিঙ্গা নেতারা।

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে সমাবেশটির আয়োজন করেছে আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-এআরএসপিএইচ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর কয়েক মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নেন আট লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে আসেন আরও কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ।

শরণার্থী হিসেবে থাকা রোহিঙ্গা নিজ মাতৃভূমিতে ফেরার দাবি জানিয়ে আসছিলেন অনেকদিন ধরেই।

বাড়ি ফেরার দাবিতে কয়েক দিন ধরে উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলোয় ‘গো হোম’ বা ‘বাড়ি চলো’ প্রচারণা শুরু করেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। আশ্রয়শিবিরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্যাম্পের অলিগলি ও শরণার্থীদের বাড়িতে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে এই কর্মসূচি চালাচ্ছেন তারা। প্রচারণা কর্মসূচি যারা চালাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগ তরুণ-যুবক। ক্যাম্পেইনের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে জানান দিতে আজ (রোববার) সকালে উখিয়া ও টেকনাফে সমাবেশের ডাক দেয় শরণার্থীরা। এসব সমাবেশ ১৯টি দাবি তুলে ধরেন তারা।

উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পের পাশে আয়োজিত সমাবেশে এআরএসপিএইচ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ‘আমরা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে চাই। বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের দাবি, আমাদের নিজ দেশে ফিরতে সহায়তা করুন। মিয়ানমারকে আমাদের দাবিগুলো মানতে বাধ্য করুন।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে একদিন আগে থেকে আমরা সবাবেশ করছি। কারণ, আমরা নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’

নিজ দেশে যেন দ্রুত ফিরতে পারেন সেজন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে বিশ্ববাসীর কাছে আহ্বান জানান অধিকাংশ বক্তা।

রোহিঙ্গাদের সমাবেশে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী। এছাড়া ক্যাম্পের ভেতরে সমাবেশে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য এপিবিএন পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

আরও খবর