সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় আরও দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ নিয়ে এই মামলায় ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো।

সন্ধ্যায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, মঙ্গলবার দিনব্যাপী মামলার সাক্ষী হাফেজ জহিরুল ইসলাম ও ডা. রণধীর দেবনাথের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আদালতে সাক্ষী হাফেজ জহিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মেজর সিনহাকে টেকনাফ শামলাপুর মারিশবনিয়া মুইন্যা পাহাড়ে নিয়ে ডাকাত সাব্যস্ত করে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল আসামিরা।’

অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত জানান, সিনহা হত্যা মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গড়মিল রয়েছে। মামলার সুরতহাল প্রতিবেদন ও চার্জশিটে বলা হয়েছে, মেজর সিনহাকে গুলি করে ও মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যিনি করেছেন, সেই ডাক্তার ও মামলার সাক্ষী রণধীর দেবনাথ আদালতকে বলেছেন, মেজর সিনহার গলায় কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মেজর সিনহার গলা অক্ষত ছিল।

এর আগে গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট টানা তিন দিন মামলার প্রথম দফায় ১নং সাক্ষী ও বাদী শারমিন সাহরিয়া ফেরদৌস এবং ২নং সাক্ষী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একইভাবে গত ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর টানা চার দিনে দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত।

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় গত বছরের ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন সাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া তদন্ত সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত থেকে মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় র‍্যাবকে। ঘটনার ছয় দিন পর ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ সাত পুলিশ সদস্য আত্মসমপর্ণ করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করে। পরে র‍্যাব পুলিশের দায়ের মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। এরপর গ্রেপতার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব।

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে।

আরও খবর