মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার যে ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে, তা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের ফলে অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় মৎস্য সেক্টরও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দেশব্যাপী পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার ফলে মৎস্য চাষে ব্যবহৃত পোনা, মৎস্যখাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও মৎস্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়।

বাজারজাতকৃত মৎস্যের দাম কমে যাওয়ায় মৎস্য সেক্টর তথা মৎস্য সেক্টরের সাথে জড়িত সকল চাষি, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জনগণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়। এরই প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় মৎস্য অধিদপ্তরও ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’ এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য সেক্টরের জন্য ১০০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করেন।

প্রকল্পটির মাধ্যমে ৫টি উপজেলা থেকে কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খাতের ৭৮ হাজার ৭৪ জনকে ৭টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন হারে ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই না করে খুব তাড়াহুড়ো করেই এই প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপরোক্ত প্রণোদনার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের সত্যতাও মিলেছে।

মৎস্যচাষীরা জানিয়েছেন, মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদানকৃত প্রণোদনার আর্থিক সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রণোদনা পাওয়ার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নানা আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেটার পরিমান ছিলো প্রণোদনায় গৃহীত টাকার অর্ধেক। অথচ সরকারের এই প্রকল্পের টাকা উপযুক্ত ব্যক্তিরা পেলে মৎস্য খাত উপকৃত হতো।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের প্রণোদনার তালিকা প্রণয়নে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। অথচ প্রনোদনার সুবিধা ছড়িয়ে দিতে সরকারের নির্দেশনা ছিল জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সরকারের প্রণোদনার সুবিধা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে পৌঁছানো হোক।

এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হকের বক্তব্য জানা যায়নি।

আরও খবর