শনিবার ৪৬৬ জনের শরীরে করোনার বিষ শনাক্ত হলেও রোববারে বেড়ে ঠেকেছে ৪৯৮ জনে। তবে সংখ্যাটা ৫০০ না পেরোনো এক প্রকার স্বস্তি। এতে করোনা শনাক্তের হার নামল ২১ শতাংশে। এদিকে কমেছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। মৃত্যুর সংখ্যা গত দুই দিনই ৫ জন করে। সর্বশেষ মারা যাওয়া ৫ জনের ২ জন চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা এবং বাকি ৩ জন উপজেলার। 

রোববার (১৫ আগস্ট) পর্যন্ত সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৯৮ জনের নমুনায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে চট্টগ্রামে মোট করোনারোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৮৪৮ জনে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দা ৬৯ হাজার ৬১২ জন এবং ১৪ উপজেলার ২৫ হাজার ২৩৬ জন। অন্যদিকে, সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১২১ জনে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের ৬৪৭ জন ও উপজেলার ৪৭৪ জন। 

শনিবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নগরীর ৯টি ল্যাব ও এন্টিজেন টেস্টে গত ২৪ ঘন্টায় ২ হাজার ৩০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নতুন করে ৪৯৮ জন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে রয়েছে ২৭৪ জন এবং ১৪ উপজেলায় ২২৪ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে রাউজানে সর্বোচ্চ ৫০ জন, হাটহাজারীতে ৩৬ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩১ জন, সাতকানিয়ায় ৩০ জন, লোহাগাড়ায় ২৪ জন, আনোয়ারায় ১৩ জন, পটিয়ায় ১০ জন, সীতাকুণ্ডে ৯ জন, ফটিকছড়িতে ৭ জন, মিরসরাইয়ে ৭ জন, বাঁশখালীতে ৪ জন এবং বোয়ালখালীতে ৩ জন। এদিন চন্দনাইশ ও সন্দ্বীপে কোনো রোগী মেলেনি।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে আরও ২ জনের মৃত্যু হল। আর উপজেলায় মারা গেলেন ৩ জন। 

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে (বিআইটিআইডি) ৮৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরের ৮৫ ও উপজেলার ৫৭ জন জীবাণুবাহক পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৩২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নগরের ৪৯ জন ও উপজেলার ৯ জনের শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৩২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরের ২৯ ও উপজেলার ৮১ জন জীবাণুবাহক পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে নগরের ৩০ জন ও উপজেলার ৩৩ জনের শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।

এদিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১৪টি নমুনায় উপজেলার তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

অন্যদিকে ২০৬টি এন্টিজেন টেস্টে নগরের ১৪ জন এবং উপজেলার ২৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

এদিকে বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে ৪৭টি নমুনায় চট্টগ্রাম নগরের ১৪ ও উপজেলার একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। বেসরকারি শেভরন ল্যাবে ১৮০টি নমুনার মধ্যে উপজেলার ৩টিসহ ১৭টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে।

এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ৪৯টি নমুনায় চট্টগ্রাম নগরের ১৩ জন ও উপজেলার একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ইপিক হেলথ কেয়ারে ৫৮টি নমুনায় চট্টগ্রাম নগরের ২১ ও উপজেলার ৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে এদিন কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। 

আরও খবর