বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারই অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য দেওয়া বীর উত্তম খেতাব ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। কাজীর দেউড়ি জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম মুছে ফেলার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে তারা। শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে অস্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসকে বিকৃত করে নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করছে। কিন্তু দেশের মানুষ এখন তাদের এসব মিথ্যা ভিত্তিহীন কথা বিশ্বাস করে না। কারণ এই চট্টগ্রামের মাটি থেকেই জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মানুষকে যুদ্ধে যাওয়ার উজ্জীবিত করেছেন। আর এ চট্টগ্রামেই শাহাদাৎ বরণ করেছেন, সার্কিট হাউসে মিশে আছে শহীদ জিয়ার রক্ত। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে এই চট্টগ্রামের মানুষ তা কঠোর হাতে প্রতিহত করবে। তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার শুরুতে পুলিশ বিনা কারণে মাইক বন্ধ করে ব্যাটারী নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি আজ শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় মাঠে বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ ইতিহাস বিকৃত করে পুরো মুক্তিযুদ্ধের কর্তৃত্ব তাদের করতে চাইলেও এদেশের মানুষ জানে তাদের কোন নেতার কি ভূমিকা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে বাকশালী কায়দার দেশ চালিয়ে, ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করবেন না। তাই আমরা আহবান জানাবো, আসুন প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে একদলীয় শাসনের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করি।

মাহবুবের রহমাম শামীম নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে এদেশের মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা স্বার্ভোমত্ব রক্ষা করার জন্য। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত এই দল আজ জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সবার উপরে। এই দলের নেতাকর্মীদের কাছে সাধারণ মানুষের অনেক চাওয়া-পাওয়া আছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আসুন আমরা শপথ করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। দুর্বার গণআন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই ভোট ডাকাত বাকশালী সরকারকে পরাজিত করে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করা হবে ইনশাল্লাহ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক সেক্টর কমান্ডার ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের দল। শহীদ জিয়া চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যান থেকে উই রিভোল্ট বলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছিলেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। সে ঘোষণায় মুক্তিকামী জনতা উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে বীর জাতি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল সে স্বপ্ন আজ ভূলুণ্ঠিত।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মানায় না। তাদের হাতে দেশ ও স্বাধীনতা নিরাপদ নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আওয়ামী লীগ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হয়েছে। তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসে মানুষের সাংবিধানিক সকল অধিকার ক্ষুন্ন করেছে। এর থেকে উত্তোরণের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট ডাকাত ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, জিয়াউর রহমান একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এদেশের সমৃদ্ধির প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার সততা ও দেশপ্রেম ছিল সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে হানাদার বাহিনীর আক্রমণের সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে আজো দেশবাসীর হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, এস এম ফোরকান, এস এম মামুন মিয়া, ফৌজুল আমিন, জামাল হোসেন, হুমায়ুন কবির আনছার, লায়ন হেলাল উদ্দীন, ইছহাক চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী জাহেদ, নুরুল কবির, এড. কাশেম চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, বোয়ালখালী পৌরসভার আহবায়ক শহিদুল্লাহ চৌধুরী, সদস্য সচিব ইউসুফ চৌধুরী, চন্দনাইশ উপজেলার সদস্য সচিব আ.ক.ম মোজাম্মেল, কর্ণফুলীর সদস্য সচিব মো. ওসমান, হাছান চেয়ারম্যান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহিদুল আলম শহিদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কে.এম আব্বাস, ওলামাদলের আহবায়ক মাওলানা ফোরকান, হাফেজ আবদুল করিম, আহমদুর রহমান, সাবেক মহিলা ভাইস চেযারম্যান আফরোজা বেগম জলি প্রমুখ।

আরও খবর