ছবি এঁকে, গান, আবৃত্তি ও কথামালায় সিআরবি রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন পিপল’স ভয়েস। শিল্পীর তুলিতে সিআরবির সবুজ যখন ফুটে উঠছিল ছবিতে, শিল্পী কন্ঠে তখন প্রতিবাদী গান ‘এন্ডে তোয়ারা হাসপাতাল বানাইলে আঁরা বাইচ্চুম কেন গরি’। কথামালায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানালেন, ‘হাসপাতাল প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চলবে চট্টগ্রামবাসীর আন্দোলন।’

সিআরবি এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিরক্ষার দাবিতে শতবর্ষী বৃক্ষে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নামফলক স্থাপনের কর্মসূচি পালন করা পিপল’স ভয়েস বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বিকালে আবৃত্তি, গানে, ছবি আঁকায় আর প্রতিবাদে মুখর করে রাখে সিআরবি সাত রাস্তার মোড়।

সংগঠন সভাপতি শরীফ চৌহানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, পরিবেশবিদ ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল, শিল্পী গৌতম পাল, চবি চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক কাজল দেবনাথ, বাসদ নেতা মহিন উদ্দিন, লেখক তুষার কান্তি বসাক, সাংস্কৃতিক সংগঠক সুনীল ধর, সাংবাদিক প্রীতম দাশ ও পিপল’স ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আতিকুর রহমান।

সকাল থেকে সিআরবি শিরীষ তলাসহ বিভিন্ন স্থানে জল রঙে ছবি আঁকেন শিল্পী গৌতম পাল, কাজল দেবনাথ, প্রিয়াস বিশ্বাস, সামাচিং মারমা, রাসেল কান্তি দাশ, অনুপ রায়, সঞ্জয় সরকার অক্ষয়, অনিক বনিক, মো. শিহাব উদ্দিন, শরফুদ্দিন চৌধুরী, মো. রাশেদ হোসেন, মো. ফজলে রাব্বী, মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, মামুর আহসান, আকাশ শীল জয়, উদয় দেবনাথ ও জহির রায়হান অভি।

মিঠুন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সিআরবি নিয়ে প্রতিবাদী সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী শঙ্কর দে, আলাউদ্দিন তাহের, সুজিত চক্রবর্তী ও জগন্নাথ দাশ। তবলায় ছিলেন শিল্পী সুরজিৎ সেন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পী কঙ্কন দাশ, প্রণব চৌধুরী, সেলিম রেজা সাগর, তাসকিয়াতুন নূর তানিয়া ও সঞ্জয় পাল।

কথামালায় ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, সিআরবি রক্ষার দাবিতে চট্টগ্রামের সব মানুষ প্রতিবাদে মুখর। সিআরবি আইনে ঘোষিত হেরিটেজ। কোনোভাবেই এর রূপ পরিবর্তন করা যাবে না।

ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, যতদিন প্রকল্প বাতিলে সরকারি ঘোষণা আসবে না, ততদিন আন্দোলন চলবে।

ড. মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আমাদের অহঙ্কার ও অলঙ্কার। বেঁচে থাকার উপাদান নিয়ে ব্যবসা করা যায় না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে চলি। চেতনা বিপন্ন হলে জাগ্রত জনতা চুপ করে বসে থাকবে না।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. হোসাইন কবীর, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজিত রায়, শিক্ষক শামসুদ্দিন শিশির, সাংবাদিক ঋত্বিক নয়ন, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ওয়াহিদুর রহমান, পিপলস ভয়েস সদস্য শ্যামল মজুমদার, নির্মাণ আবৃত্তি অঙ্গনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাহফুজ, খেলাঘর মহানগরীর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোরশেদুল আলম চৌধুরী, সাংবাদিক প্রণব বল, মিন্টু চৌধুরী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্যামল ধর, রাহুল দত্ত, আমিনুল ইসলাম মুন্না, সাংস্কৃতিক সংগঠক রুবেল দাশ প্রিন্সসহ প্রমূখ।

চট্টগ্রাম বার্তা/পিএ

আরও খবর