কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্নস্থানে হিন্দু সম্প্রদাুয়ের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। পাশাপাশি তারা হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও তাগাদা দিয়েছে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ফল যা সংবিধানের মূল্যবোধের পরিপন্থী। এটি থামানো উচিত। আমরা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা জোরদারের প্রয়াসে যুক্ত হতে আমরা সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

অপর এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সাদ হাম্মাদি বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবের মধ্যে তাদের উপর হামলার ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে দেখে আসছি আমরা। গত কয়েক বছরে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিরাপত্তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদ হাম্মাদি বলেন, সরকারকে অবশ্যই দ্রুত, পরিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমিল্লার একটি প্রতিমার ওপর পবিত্র কুরআন শরীফ পাওয়া যায়। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার ওসি গিয়ে কুরআন শরীফ উদ্ধার করেন। এই ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ হয়। ফেনী, নোয়াখালী, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের মন্দির ভাংচুর ও বাড়িঘর লুটপাট করা হয়। তবে বড় ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে রাতের আঁধারে।

সরকার তদন্তের পাশাপাশি রংপুর ও ফেনীর এসপি এবং চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বিজয় বসাককে বদলি করেছেন।

আরও খবর