অবশেষে দীর্ঘ ১৯ মাস পর খুলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। ৫৭৯ দিন পর সোমবার (১৮ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের নানা আয়োজন বরণ করে নিতে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হল প্রশাসন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সংস্কার করা হয়েছে নষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন জিনিসপত্র। হলজুড়ে চালানো হয়েছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯ টায় খুলে দেয়া হবে আবাসিক হলগুলো। আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা অন্তত এক ডোজ টিকা দিয়েছে তাদের টিকা কার্ড ও হলের পরিচয়পত্র দেখে হলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। হলে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে একেক হলের থাকবে একেক আয়োজন। শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে ফুল, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার। কোন কোন হলে দেয়া হবে একবেলার খাবার। আবার কোন কোন হলে দেয়া হবে কলম, চকলেট।

এদিকে ১৯ মাস পর আবাসিক হলে উঠার জন্য বেশ উম্মুখ হয়ে আছে শিক্ষার্থীরা।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তানহা ইসলাম ছোঁয়া বলেন, দীর্ঘ ১৯ মাস পর হলে উঠবো। আমরা যারা হলে থাকি কালকের দিনটার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এতদিন পর হলে উঠবো, সবার সাথে দেখা হবে। সবকিছু আবার আগের মতো করেই শুরু করবো৷ এটার যে একটা অনুভূতি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

শামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শামীমা ইসলাম তিশা বলেন, দেড় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আমাদের হল খুলবে কাল। এতদিন হল বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছো। অনেক দিন পর আবার সবাই একসাথে হবো এজন্য ভালো লাগছে।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের হলে বরণ করে নিতে আমরা প্রস্তুত। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো৷ অনেক রুমে এক সিটে দুইজন থাকে। আমরা চেষ্টা করবো এক সিটে একজন করে ছাত্রী রাখার৷ ছাত্রীদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হলে প্রবেশের সময় আমরা ফুল, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, চকলেট দিয়ে বরণ করে নিবো। পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্রীরা এতদিন পরে আসবে, তাদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রাখছি।

আরও খবর