মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে। মা ছেনোয়ারা বেগম অনেক কষ্টে লালন-পালন করেছেন ছেলেকে। হঠাৎ ১৬ বছর বয়সে মানসিক সমস্যা দেখা দেয় ছেলের। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ছেলে জাহিদ নিজ বাসা সাতকানিয়া থেকে চলে আসেন ফেনীর ছাগলনাইয়া। সেখানে এক দোকানের পাশেই পড়েছিলেন দীর্ঘ তিন বছর। পরে গোয়েন্দা সংস্থা ডিএসবিতে কর্মরত সালাউদ্দিন লিটনের সহযোগিতায় জাহিদকে রোববার (১ আগস্ট) পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানতে চাইলে সালাউদ্দিন লিটন বলেন, গত তিন বছর ধরে আমার এলাকায় এক দোকানের সামনে বসে থাকতো জাহিদ। প্রায় সময় আমার বাবা ও বাচ্চারা খাবার দিতো তাকে। মাঝে মধ্যে প্রতিবেশীরাও খাবার এনে দিতেন। আবার অনেকেই এসে পরিচয় জানতে চাইতো। কিন্তু কারো সঙ্গে কথা বলতো না।

তিনি বলেন, কোরবানির ঈদে যখন বাড়ি যাই তখনো দেখি সে ওই স্থানেই বসা। কৌতূহল মেটাতে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি- সে চট্টগ্রামের ভাষায় কথা বলতে পারে কিনা। এরপরও নিশ্চুপ দেখে আমি তাকে চট্টগ্রামের ভাষায় সেখানকার সবকটি থানার নাম বলি। সাতকানিয়ার কথা বলতেই সে আঁৎকে ওঠে এবং কথা বলতে শুরু করে।

‘আমি পূর্বে সাতকানিয়ায় চাকরি করার সুবাদে বন্ধুদের মাধ্যমে ফেসবুকে তার ছবি প্রচার করি। পরে তার মামা আমার নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করেন। এরপর তাকে পরিপাটি করে স্বজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ’

মো. জাহিদের বাড়ি সাতকানিয়ার চর খাগরিয়ায়। তার মা ছেনোয়ারা বেগম বলেন, আল্লাহর ফেরেশতা হয়ে তিনি (সালাউদ্দিন লিটন) আমার ছেলেকে বুকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ছেলেকে ফিরে পেয়ে নামাজ পড়ে দোয়া করেছি। ছেলেটা এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয়। আগের কোনো ঘটনাই তার মনে নেই।

আরও খবর