চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালি জাতির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁর ১৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিহিত ছিল।

বিভাগীয় কমিশনার রোববার (৭ মার্চ) জেলা প্রশাসন আয়োজিত নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ, জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মহানগর কমান্ডার মোজাফর আহম্মদসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড এক নাগাড়ে ভাষণ দিয়েছেন। মানুষের সঙ্গে কানেক্ট করার জন্য যে শব্দ চয়ন প্রয়োজন, সে শব্দ চয়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধু সেই ভাষণে জাতিকে তুমি বলে সম্বোধন করেছেন, তিনি জাতিকে আপন করে নিয়েছেন বলেই তুমি বলে সম্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রতিটা শব্দ একটি কবিতা। একটি লাইন একটি মহাকাব্য।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বহু কালজয়ী ভাষণ আছে, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং, আব্রাহাম লিংকন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুসহ অনেকের কালজয়ী ভাষণ আছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এসব কালজয়ী ভাষণ থেকেও অনন্য, অসাধারণ এবং দিক নির্দেশনা মূলক। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ হাজার হাজার বছরের ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তুলে, নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র করে। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক ভাষণ আছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যেভাবে মানুষকে উদ্দীপ্ত করেছে।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য এবং জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ৭ মার্চ আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি ও চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক জেলা শিল্পকলা একাডেমির জয়নুল আর্ট গ্যালারিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রদর্শনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক কর্ম ও জীবন ভিত্তিক স্থিরচিত্র প্রদর্শিত হয়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান এ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে প্রদত্ত চট্টগ্রামের ১৪২ জন শিল্পী, কবি, কলাকুশলী সাহিত্যিক ও লেখকদের মাঝে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

সবশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

আরও খবর