উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
PRINCE DEY ||
চট্টগ্রাম, ২৫ এপ্রিল: ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম বড় আয়োজন জব্বার মিয়ার বলী খেলা ও এর সাথে যুক্ত বৈশাখী মেলা ঘিরে চট্টগ্রাম এখন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। শহরের লালদিঘী ময়দান ও আশপাশ এলাকা পরিণত হয়েছে মানুষের ঢল নামা এক বিশাল জনসমুদ্রে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১১৭তম আসরঐতিহ্যবাহী এই বলী খেলার সূচনা করেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আবদুল জব্বার সওদাগর। স্থানীয় যুবকদের শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও সাহসী করে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯০৯ সালে শুরু হওয়া এই আয়োজন আজ শতবর্ষ পেরিয়ে ১১৭তম আসরে পৌঁছেছে। মেলা ও খেলার বর্তমান চিত্রএবারের আয়োজন ঘিরে লালদিঘী ময়দানকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় বসেছে বিশাল বৈশাখী মেলা। সকাল থেকেই শুরু হওয়া ভিড় বিকেলের পর রূপ নিচ্ছে জনসমুদ্রে।মেলার পাশাপাশি চলছে মূল আকর্ষণ বলী খেলা, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শক্তিশালী কুস্তিগীররা অংশ নিচ্ছেন। খালি হাতে কৌশল ও শক্তির লড়াইয়ে মুগ্ধ হচ্ছে হাজারো দর্শক।মেলার আকর্ষণএবারের মেলায় রয়েছে নানা ধরনের পসরা—গ্রামীণ হস্তশিল্প ও বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্যমাটির পাত্র, খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রীদেশীয় খাবার যেমন পিঠা, মিষ্টি ও ঝালমুড়িশিশুদের জন্য নাগরদোলা ও বিনোদনমূলক রাইডএছাড়া লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ভরে উঠেছে পুরো এলাকা।নিরাপত্তা ব্যবস্থাআয়োজকদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব ও স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ও ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে।সময়সূচিমেলা শুরু: ২৪ এপ্রিলমূল বলী খেলা: ২৫ এপ্রিলমেলা শেষ: ২৬ এপ্রিল ভোরের মধ্যেসামাজিক গুরুত্বচট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বন্ধনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহর ও গ্রামের মানুষের মিলনমেলা হিসেবে এটি এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। জব্বার মিয়ার বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, গৌরব ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে প্রতি বছর নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।