উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
PRINCE DEY ||
ঢাকাকে ক্লিন-গ্রিন নগরী করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীররাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী ও বহুমাত্রিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্রুত নগরায়ন, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং পরিবেশ দূষণের কারণে ঢাকার বাসযোগ্যতা দিন দিন কমে আসছে—এমন প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনাকে সময়োপযোগী ও জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকাকে বাঁচাতে হলে এখনই সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে।” এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করা। প্রতিদিন ঢাকায় উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং ঘরে ঘরে বর্জ্য আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।খাল-নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধারঢাকার হারিয়ে যাওয়া খাল ও জলাধারগুলো পুনরুদ্ধারে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবৈধ দখলমুক্ত করে খালগুলো খনন, পানি প্রবাহ সচল রাখা এবং শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে করে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং নগরীর পরিবেশও উন্নত হবে।সবুজায়ন ও উন্মুক্ত স্থান বৃদ্ধিঢাকাকে “গ্রিন সিটি” হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। রাস্তার পাশ, মিডিয়ান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি জায়গায় গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি নতুন পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান তৈরি এবং বিদ্যমান পার্কগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। ছাদ বাগান ও নগর কৃষিকে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।বায়ুদূষণ ও যানজট নিরসনবায়ুদূষণ কমাতে পুরনো ও দূষণকারী যানবাহন ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে। গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (BRT) ও অন্যান্য প্রকল্পের সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। এতে করে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমে যানজটও হ্রাস পাবে।স্মার্ট সিটি উদ্যোগ ও প্রযুক্তির ব্যবহারঢাকাকে একটি স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট সিগন্যালিং, নজরদারি ক্যামেরা, এবং অনলাইন নাগরিক সেবা চালু করা হবে। এতে করে সেবার মান বাড়বে এবং দুর্নীতি ও ভোগান্তি কমবে।নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণপ্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়—নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই পরিকল্পনা সফল হবে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বএই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকা একদিন সত্যিকার অর্থেই একটি ক্লিন-গ্রিন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে—যা দেশের উন্নয়নের প্রতীক হয়ে