উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
PRINCE DEY ||
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তৈরি পোশাক কারখানার আমদানিকৃত ফেব্রিকস বা কাপড়ের রোল পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বড় জয় পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বন্দর থেকে গাজীপুর নেওয়ার পথে কৌশলে লুট করা ১৬৩ রোল কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।নোয়াখালী জেলার হাতিয়া ও চর জব্বর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই বিশাল চালানটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ। এ সময় চুরির সাথে জড়িত অভিযোগে আবুল বাসার (২৬) নামক এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গত ২৪ এপ্রিল কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড নামক একটি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তাদের আমদানিকৃত ফেব্রিকসগুলো একটি কাভার্ডভ্যানে করে গাজীপুরের কারখানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মালামাল গন্তব্যে না পৌঁছালে এবং চালকের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মালামাল বহনকারী কাভার্ডভ্যানটি চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে বিরতি দেয়। সেখানে চালক ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে গাড়ির সিলগালা অক্ষত রেখে ভেতর থেকে কাপড়ের রোলগুলো নামিয়ে অন্য একটি ট্রাকে সরিয়ে ফেলে। এরপর তারা মালামালগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নোয়াখালীর দুর্গম এলাকায় পাঠিয়ে দেয়।চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল সোমবার (৪ মে) নোয়াখালীতে অভিযান চালায়। হাতিয়া এলাকা থেকে ৯৬ রোল কাপড় উদ্ধার করা হয়। চর জব্বর এলাকা থেকে ৬৭ রোল কাপড় উদ্ধার করা হয়।অভিযান পরিচালনা করা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি সুসংগঠিত চোর চক্র। তারা দীর্ঘদিন ধরে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের সময় কৌশলে মালামাল সরিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাসারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের নাম পাওয়া গেছে।ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) জানান, "পোশাক খাতের পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। এই চক্রের মূল হোতা এবং পলাতক চালককে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"উদ্ধারকৃত মালামাল বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।