উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
PRINCE DEY ||
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীর ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এক নজিরবিহীন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সাধারণত পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ ব্যবহার করে সৌদি আরবের তেল বাংলাদেশে আসলেও, এবার সেই পথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করে একটি বিশাল জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছেছে।জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তবে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং এই এলাকায় জাহাজ আটকের ঘটনার কারণে রুটে ঝুঁকি বেড়ে গেছে। যেকোনো সময় এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলীয় বন্দর (লোহিত সাগর সংলগ্ন) ব্যবহার করে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটি সৌদি আরবের লোহিত সাগর (Red Sea) উপকূলে অবস্থিত বন্দর থেকে তেল লোড করে। এরপর এটি:বাবেল মান্দেব প্রণালী পার হয়ে এডেন উপসাগরে প্রবেশ করে। আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। এই পথে জাহাজটি চালানোর ফলে পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের প্রয়োজন পড়েনি, যা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে জাহাজটিকে মুক্ত রেখেছে।বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক কারণ, বীমা খরচ হ্রাস. যুদ্ধ বা সংঘাতপূর্ণ এলাকা দিয়ে জাহাজ চললে 'ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম' বা অতিরিক্ত বীমা খরচ দিতে হয়। বিকল্প পথে আসায় এই খরচ সাশ্রয় হয়েছে।হরমুজ প্রণালী কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ সচল থাকবে, এই ট্রায়াল বা যাত্রা তারই প্রমাণ দিল।এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ কেবল প্রথাগত রুটের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম।জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আমরা চাই না আমাদের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কোনো একটি নির্দিষ্ট রুট বা প্রণালীর ওপর জিম্মি হয়ে থাকুক। বিকল্প রুটে তেল নিয়ে আসা আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি অংশ।"বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফল যাত্রার ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকেও বিকল্প পথে পণ্য আমদানির দুয়ার খুলে যাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।