উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
দেশে আশঙ্কাজনক হারে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি এবং এতে তিন শতাধিক শিশুর অকাল মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার চরম অবহেলাকে দায়ী করে তাঁর বিচারের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিশুদের ‘প্রতীকী মরদেহ’ নিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও কড়া প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।দুপুর ১২টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর একদল নেতাকর্মী সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছোট ছোট বেশ কয়েকটি প্রতীকী মরদেহ নিয়ে অবস্থান নেন। এসময় তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন যাতে লেখা ছিল— “হামে শিশু মৃত্যু নয়, এ এক রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড”, “ব্যর্থ স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগ ও বিচার চাই” এবং “স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা রুখে দাঁড়াও”।সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তাদের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল।বক্তারা অভিযোগ করেন যে, হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু প্রমাণ করে সরকারের টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো ভেঙে পড়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এই সংকট নিরসনে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেননি এবং মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান লুকিয়ে জনগণের সামনে পরিস্থিতির ভয়াবহতা গোপন করার চেষ্টা করছেন। বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি: এই গণমৃত্যুকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন,“আমরা এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছি, যেখানে প্রতিটি জীবনের মূল্য থাকবে। কিন্তু হামের মতো রোগে আজ শত শত শিশু প্রাণ হারাচ্ছে, আর আমাদের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। এই মৃত্যুগুলোর দায় নিয়ে অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি নীলক্ষেত ও শাহবাগ মোড় হয়ে পুনরায় টিএসসিতে এসে শেষ হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি অবিলম্বে দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তারা দেশব্যাপী বড় ধরনের গণআন্দোলনের ডাক দেবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামের প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আজকের এই কর্মসূচি সেই ক্ষোভেরই এক বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।