উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন জামায়াত ও বিএনপির ৫ জন স্থানীয় নেতা। গতকাল ৯ মে, ২০২৬ শনিবার রাতে মিরপুর থানায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আজ রোববার সকালেও তারা থানা হেফাজতে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় মাদকসহ আটক এক কারবারিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতা। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, ওসির সাথে অশোভন আচরণ এবং মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে অনৈতিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।শনিবার (৯ মে) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুর থানা পুলিশ উপজেলার নওদা আজমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে ৮ পিস ইয়াবাসহ ওই এলাকার রমজান আলীর ছেলে ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে (৩৩) আটক করা হয়। রবিউলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী বেশ কিছু ব্যক্তি থানায় ভিড় করতে থাকেন।পুলিশ জানায়, আটক মাদক ব্যবসায়ী রবিউলকে ছাড়িয়ে নিতে জামায়াত ও বিএনপির ৫ জন নেতা মিরপুর থানায় প্রবেশ করেন। তারা নিজেদের দলীয় পরিচয় দিয়ে রবিউলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা ওসির সাথে উচ্চবাচ্য ও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বাধা সৃষ্টির অপরাধে পুলিশ ওই ৫ জনকেই থানা হেফাজতে নেয়।আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে ১ জন বিএনপি এবং ৪ জন জামায়াত সমর্থিত বলে জানা গেছে। তারা হলেন:মো. এনামুল হক (৪৫): সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা।মো. আলাউদ্দিন (৪৩): সদরপুর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত মেম্বার প্রার্থী।মো. সুজন আলী (৩৩): স্থানীয় জামায়াত নেতা।মো. শফিকুল ইসলাম (২৫): স্থানীয় জামায়াত নেতা।মো. সাইদুল ইসলাম (৩৯): স্থানীয় জামায়াত নেতা।এই ঘটনায় মিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী পুলিশের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন:"মাদক নির্মূলে পুলিশের এই ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাদক ব্যবসায়ী বা তার পৃষ্ঠপোষক যেই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। যারা মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে তদবির করতে থানায় গেছে, তারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে; তারা প্রকৃত অর্থে দলের কেউ হতে পারে না।"মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, "আমরা মিরপুরকে মাদক মুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। রবিউলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর তাকে ছাড়াতে এসে যারা পুলিশের কাজে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"এই ঘটনার পর মিরপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন অনড় অবস্থানের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।