উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
গাজীপুরের শ্রীপুরে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার ভয়াবহতায় স্তব্ধ পুরো জনপদ। তবে এই চরম বিপদের মুহূর্তে জেলা প্রশাসনের মানবিক হস্তক্ষেপে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহগুলো শেষবারের মতো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।গত রাতে শ্রীপুরের আবদার এলাকায় এক বসতবাড়ি থেকে মা ও তিন সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘরের ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিথর দেহগুলো দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও শোকের সৃষ্টি হয়।নিহত পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় এবং তাদের স্বজনদের পক্ষে এই বিশাল শোকের মধ্যে আইনি ও দাফন-কাফনের খরচ বহন করা বা মরদেহ দ্রুত সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিষয়টি গাজীপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নজরে এলে তিনি তৎক্ষণাৎ বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।দ্রুত ময়নাতদন্ত: প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দ্রুততম সময়ে ময়নাতদন্ত শেষ করা হয়।আর্থিক সহায়তা: মরদেহ পরিবহন এবং দাফন-কাফন সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।সমন্বয়: ডিসির সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ বিভাগ যৌথভাবে কাজ করেছে যাতে স্বজনদের কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হতে না হয়।আজ বিকেলে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের হাতে তুলে দেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে যখন নিথর দেহগুলো নিজ গ্রামের পথে রওয়ানা হয়, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনরা জানান, প্রশাসনের এই দ্রুত ও মানবিক ভূমিকা না থাকলে তারা হয়তো এই কঠিন সময়ে আরও দিশেহারা হয়ে পড়তেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের একাধিক টিম কাজ করছে। গাজীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো জেলায় শোকের আবহ বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা অবিলম্বে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।