উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
তামিলনাড়ুতে ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান (TASMAC) বন্ধের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের সাম্প্রতিক ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তামিলনাড়ুর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী এবং 'তামিঝাগা ভেট্রি কাজাগাম' (TVK) প্রধান থালাপতি বিজয়। জনস্বার্থ ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রাজ্যজুড়ে পরিচালিত ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান (TASMAC) অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান এবং জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত দোকানগুলোকেই এই অভিযানের প্রথম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৭১৭টি দোকান এমন সব স্পর্শকাতর স্থানে অবস্থিত ছিল যা সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণগুলো হলো। স্কুল ও কলেজের সীমানার খুব কাছে অবস্থিত দোকানগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের পথে মদ্যপ ব্যক্তিদের উপদ্রব কমবে এবং একটি সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে। মন্দির, মসজিদ ও গির্জার মতো উপাসনালয়ের সন্নিকটে থাকা দোকানগুলো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় সেগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাস স্ট্যান্ড ও প্রধান জনাকীর্ণ এলাকায় থাকা দোকানগুলোর কারণে সন্ধ্যা হলেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতো। এই দোকানগুলো বন্ধ হওয়ায় নারী ও শিশুদের যাতায়াত আরও নিরাপদ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় এলে তিনি ধাপে ধাপে তামিলনাড়ুকে মদ্যপানমুক্ত রাজ্যে পরিণত করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে ৭১৭টি দোকান বন্ধ করা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। সরকারের এই নীতিকে 'জিরো টলারেন্স টু ডিসঅর্ডার' হিসেবে দেখা হচ্ছে।এত বিপুল সংখ্যক দোকান বন্ধের ফলে সরকারের রাজস্বে কিছুটা টান পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সামাজিক সুস্থতাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এছাড়া এই দোকানগুলোতে কর্মরত কর্মচারীদের বেকার না করে অন্য সরকারি বিভাগে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দোকান বন্ধের ফলে যেন অবৈধ মদের ব্যবসা না বাড়ে, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ নজরদারি ও ড্রোন টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে মদের দোকান সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বিজয়ের জনপ্রিয়তাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ মদ্যপান নিষিদ্ধকরণের পথকে প্রশস্ত করবে।