উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
||
সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। যেসব জমির কর বকেয়া রয়েছে, সেগুলোর বকেয়াসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা সুরক্ষিত রাখতে এবং ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়াতে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার আওতায় আসার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ই-নামজারি, খতিয়ান যাচাই, দাখিলা সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা চালু করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভূমি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাজনা পরিশোধ না করলে পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নামজারি, জমি বিক্রয়, উত্তরাধিকার হস্তান্তর কিংবা ব্যাংক ঋণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সকল জমির মালিককে দ্রুত বকেয়া কর পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, জাল দলিল, একাধিক মালিকানা দাবি এবং অবৈধ দখলের মতো সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যা কমিয়ে আনতে ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। অনলাইনে জমির তথ্য সংরক্ষণ করা হলে মালিকানার তথ্য সহজে যাচাই করা সম্ভব হবে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও কমবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অনেক এলাকায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমেও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দালাল নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে খাজনা পরিশোধের ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল দাখিলা পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সরকার আশা করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে জমি সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। তবে এ জন্য সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সচেতন ও অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এদিকে ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের সব ভূমি মালিককে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে জমির সকল তথ্য হালনাগাদ রাখা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং সরকারি অনলাইন সেবার আওতায় আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা শুধু কর আদায় সহজ করবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ভূমি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।