বাংলা নববর্ষের আগমনে চট্টগ্রাম শহর যেন প্রাণ ফিরে পায় নতুন এক উচ্ছ্বাসে। পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর থেকেই নগরজুড়ে শুরু হয় বর্ণিল আয়োজন, যা শুধু একটি উৎসব নয়—বরং বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—সবখানেই লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত মানুষের পদচারণায় তৈরি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ।
ভোরের আলো ফুটতেই ডিসি হিল-এ জড়ো হতে শুরু করে হাজারো মানুষ। এখানে বরাবরের মতো আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো পরিবেশন করে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। “এসো হে বৈশাখ” গানের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরিবেশে এই আয়োজন যেন নববর্ষের এক অনন্য সূচনা তৈরি করে।
একই সময়ে সিআরবি এলাকায় দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। সবুজে ঘেরা এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি নববর্ষে হয়ে ওঠে পরিবারের মিলনমেলা। শিশুদের হাসি, তরুণদের আড্ডা এবং নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সিআরবি পরিণত হয় এক আনন্দঘন প্রাঙ্গণে। অনেকেই এখানে পিকনিকের আমেজে দিনটি উপভোগ করেন, আবার কেউ কেউ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।
নগরীর অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র জেএম সেন হল প্রাঙ্গণেও থাকে জমজমাট আয়োজন। এখানে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যায় গ্রামীণ হস্তশিল্প, মাটির তৈরি সামগ্রী, শাড়ি, গহনা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার। পান্তা-ইলিশ, চিতই পিঠা, ঝালমুড়ি, ফুচকা—এসব খাবারের স্বাদ নিতে ভিড় করেন নানা বয়সের মানুষ। পাশাপাশি মঞ্চে চলে গান, নাচ ও নাটকের পরিবেশনা, যা দর্শকদের আকর্ষণ করে সারাদিন।
শহরের বিনোদনপ্রেমীদের জন্য ফয়েজ লেক-এও থাকে বিশেষ আয়োজন। লেকের মনোরম পরিবেশে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এখানে ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। নৌকাভ্রমণ, শিশুদের বিভিন্ন রাইড এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়।
অন্যদিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত-এ নববর্ষ উপলক্ষে মানুষের ঢল নামে। সমুদ্রের ঢেউ, খোলা আকাশ আর উৎসবের আমেজ একসাথে মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অনেকেই সূর্যাস্ত উপভোগ করতে এখানে আসেন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান।
এছাড়া নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনও আয়োজন করে নিজেদের মতো করে নববর্ষ উদযাপন। অনেক জায়গায় বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রঙিন মুখোশ, ব্যানার ও বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনায় এই শোভাযাত্রা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে নববর্ষ উদযাপন এক প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময় ও আনন্দঘন অভিজ্ঞতা। এটি শুধু আনন্দ-উৎসব নয়, বরং মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও একাত্মতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। পুরনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন স্বপ্ন ও আশার আলো নিয়ে চট্টগ্রামবাসী বরণ করে নেয় নতুন বছরকে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা নববর্ষের আগমনে চট্টগ্রাম শহর যেন প্রাণ ফিরে পায় নতুন এক উচ্ছ্বাসে। পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর থেকেই নগরজুড়ে শুরু হয় বর্ণিল আয়োজন, যা শুধু একটি উৎসব নয়—বরং বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—সবখানেই লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত মানুষের পদচারণায় তৈরি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ।
ভোরের আলো ফুটতেই ডিসি হিল-এ জড়ো হতে শুরু করে হাজারো মানুষ। এখানে বরাবরের মতো আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো পরিবেশন করে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। “এসো হে বৈশাখ” গানের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রকৃতির স্নিগ্ধ পরিবেশে এই আয়োজন যেন নববর্ষের এক অনন্য সূচনা তৈরি করে।
একই সময়ে সিআরবি এলাকায় দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। সবুজে ঘেরা এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটি নববর্ষে হয়ে ওঠে পরিবারের মিলনমেলা। শিশুদের হাসি, তরুণদের আড্ডা এবং নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সিআরবি পরিণত হয় এক আনন্দঘন প্রাঙ্গণে। অনেকেই এখানে পিকনিকের আমেজে দিনটি উপভোগ করেন, আবার কেউ কেউ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।
নগরীর অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র জেএম সেন হল প্রাঙ্গণেও থাকে জমজমাট আয়োজন। এখানে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে বিভিন্ন স্টলে পাওয়া যায় গ্রামীণ হস্তশিল্প, মাটির তৈরি সামগ্রী, শাড়ি, গহনা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার। পান্তা-ইলিশ, চিতই পিঠা, ঝালমুড়ি, ফুচকা—এসব খাবারের স্বাদ নিতে ভিড় করেন নানা বয়সের মানুষ। পাশাপাশি মঞ্চে চলে গান, নাচ ও নাটকের পরিবেশনা, যা দর্শকদের আকর্ষণ করে সারাদিন।
শহরের বিনোদনপ্রেমীদের জন্য ফয়েজ লেক-এও থাকে বিশেষ আয়োজন। লেকের মনোরম পরিবেশে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এখানে ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। নৌকাভ্রমণ, শিশুদের বিভিন্ন রাইড এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়।
অন্যদিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত-এ নববর্ষ উপলক্ষে মানুষের ঢল নামে। সমুদ্রের ঢেউ, খোলা আকাশ আর উৎসবের আমেজ একসাথে মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অনেকেই সূর্যাস্ত উপভোগ করতে এখানে আসেন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান।
এছাড়া নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনও আয়োজন করে নিজেদের মতো করে নববর্ষ উদযাপন। অনেক জায়গায় বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রঙিন মুখোশ, ব্যানার ও বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনায় এই শোভাযাত্রা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে নববর্ষ উদযাপন এক প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময় ও আনন্দঘন অভিজ্ঞতা। এটি শুধু আনন্দ-উৎসব নয়, বরং মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও একাত্মতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। পুরনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন স্বপ্ন ও আশার আলো নিয়ে চট্টগ্রামবাসী বরণ করে নেয় নতুন বছরকে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন