মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
সিটিজি বার্তা

আর্কাইভ দেখুন

ব্রুনাইয়ে ৮৮ নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে বোয়েসেল, আবেদন শেষ ১৫ মে

ব্রুনাইয়ে ৮৮ নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে বোয়েসেল, আবেদন শেষ ১৫ মে

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এর মাধ্যমে এবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাই দারুসসালাম-এ ৮৮ জন নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে।প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৫ মে (শুক্রবার) পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।নিয়োগের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপটব্রুনাইয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা পূরণের অংশ হিসেবে এই নিয়োগ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।সরকারি পর্যায়ে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বোয়েসেল নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক প্রেরণ করে আসছে।নিয়োগের খাতএই নিয়োগ মূলত নির্মাণ খাতের জন্য নির্ধারিত। নির্বাচিত কর্মীরা বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাবেন। সাধারণত এ ধরনের নিয়োগে নির্মাণ শ্রমিক, সহকারী শ্রমিক, বা বিভিন্ন স্কিলড/আনস্কিলড পজিশন অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে নির্দিষ্ট পদের বিস্তারিত বোয়েসেলের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে।আবেদন প্রক্রিয়াআগ্রহী প্রার্থীদের বোয়েসেলের নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা (যদি প্রযোজ্য হয়), অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঠিকভাবে জমা দিতে হবে।নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই, সাক্ষাৎকার বা মেডিকেল পরীক্ষার মতো ধাপ থাকতে পারে।বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগবিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমায় এবং শ্রমিকদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করে। ফলে দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়।চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমাআবেদন শেষ তারিখ: ১৫ মে (শুক্রবার)মাধ্যম: অনলাইন আবেদননিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান: বোয়েসেলকর্মস্থল: ব্রুনাই দারুসসালামএই নিয়োগকে বিদেশে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণ খাতে অভিজ্ঞ বা আগ্রহী কর্মীদের জন্য এটি হতে পারে একটি নিরাপদ ও বৈধ কর্মসংস্থানের পথ।


শিশুদের হাম পরিস্থিতি, টিকা সংকট খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক তদন্ত

শিশুদের হাম পরিস্থিতি, টিকা সংকট খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক তদন্ত

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং টিকার সংকট নিয়ে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। একই সময়ে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকার সরবরাহে ঘাটতি, বিতরণে অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে টিকা না পাওয়ার অভিযোগও ব্যাপকভাবে সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতেই সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখছে না; বরং এটি জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তাই টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, মাঠপর্যায়ে সরবরাহ এবং টিকাদান কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও কোনো অব্যবস্থাপনা, গাফিলতি কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, তদন্ত শুধু দেশের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করেও বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টিকা সংকটের প্রকৃত কারণ এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনের বাস্তব চিত্র তুলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সরকারি সূত্রগুলো বলছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গত কয়েক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে, সেসব এলাকাতেই সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েও তারা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা পাননি।এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্প পরিচালনা, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় করা এবং গণসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, দেশে বর্তমানে টিকার মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত নতুন চালান আমদানির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ধরনের ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না পেলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারির পর অনেক দেশে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছিল। তার প্রভাব এখনও বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও যদি টিকাদান ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।এদিকে সরকারের তদন্ত ঘোষণার পর স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত হলে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনাল চালু, জাপানি ব্যবস্থাপনায় ২৭% আয় বাংলাদেশ পাবে, ধাপে ধাপে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে যাবে দেশ

বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনাল চালু, জাপানি ব্যবস্থাপনায় ২৭% আয় বাংলাদেশ পাবে, ধাপে ধাপে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে যাবে দেশ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল। দেশের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের দিন থেকেই সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই টার্মিনালটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। চুক্তির আওতায় জাপানি অপারেটর প্রতিষ্ঠান শুরুতে থার্ড টার্মিনালের অপারেশন, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা সমন্বয়, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে বলে জানা গেছে। বাকি অংশ পরিচালন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা, আন্তর্জাতিক অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশি অংশীদারদের সেবার বিপরীতে ব্যবহৃত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সরাসরি মালিকানা হস্তান্তরের কোনো চুক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন ও ম্যানেজমেন্ট মডেল। বিমানবন্দর ব্যবহার ফি, যাত্রীসেবা চার্জ, কার্গো সার্ভিস, কমার্শিয়াল স্পেস ভাড়া, পার্কিং এবং ডিউটি-ফ্রি শপ থেকে আসা রাজস্ব এই আয় বণ্টনের আওতায় থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে বাংলাদেশের অংশ তুলনামূলক কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ জনবল তৈরি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ লাভবান হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য ১০ থেকে ১৫ বছরের ব্যবস্থাপনা মেয়াদ শেষে থার্ড টার্মিনালের সম্পূর্ণ পরিচালন ব্যবস্থা শতভাগ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি প্রকৌশলী, অপারেশন কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মী এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদেশি সহায়তা ছাড়াই বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় টার্মিনাল পরিচালনা করতে পারবে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রথম ধাপে সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবে। ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াগামী ফ্লাইটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে Biman Bangladesh Airlines-এর কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়াও Emirates, Qatar Airways এবং Saudia-সহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স নতুন টার্মিনাল ব্যবহার শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা উদ্বোধনের আগে প্রকাশ করা হবে। পুরোপুরি চালু হলে থার্ড টার্মিনাল বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী সেবা দিতে সক্ষম হবে। এতে বর্তমান টার্মিনালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, ইমিগ্রেশন জটিলতা ও লাগেজ ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। টার্মিনালটিতে যুক্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের নানা অত্যাধুনিক সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে— সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম ডিজিটাল ইমিগ্রেশন ও ই-গেট ব্যবস্থা উন্নত নিরাপত্তা স্ক্যানিং প্রযুক্তি আধুনিক বোর্ডিং ব্রিজ প্রশস্ত ট্রানজিট ও ভিআইপি লাউঞ্জ অত্যাধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা স্মার্ট পার্কিং ও যাত্রী সহায়তা কেন্দ্র পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী অবকাঠামো বিশ্লেষকদের মতে, থার্ড টার্মিনাল শুধু বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। জাপানি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনালের উদ্বোধন দেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, জাপানি পরিচালন দক্ষতা এবং ধাপে ধাপে বাংলাদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা—সবকিছু মিলিয়ে এটি দেশের অন্যতম কৌশলগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


৩০ জুনের মধ্যে খাজনা পরিশোধে জরুরি নির্দেশনা, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় জোর সরকারের

৩০ জুনের মধ্যে খাজনা পরিশোধে জরুরি নির্দেশনা, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় জোর সরকারের

সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। যেসব জমির কর বকেয়া রয়েছে, সেগুলোর বকেয়াসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা সুরক্ষিত রাখতে এবং ভবিষ্যৎ জটিলতা এড়াতে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার আওতায় আসার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ই-নামজারি, খতিয়ান যাচাই, দাখিলা সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা চালু করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভূমি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাজনা পরিশোধ না করলে পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নামজারি, জমি বিক্রয়, উত্তরাধিকার হস্তান্তর কিংবা ব্যাংক ঋণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সকল জমির মালিককে দ্রুত বকেয়া কর পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, জাল দলিল, একাধিক মালিকানা দাবি এবং অবৈধ দখলের মতো সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যা কমিয়ে আনতে ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। অনলাইনে জমির তথ্য সংরক্ষণ করা হলে মালিকানার তথ্য সহজে যাচাই করা সম্ভব হবে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও কমবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অনেক এলাকায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমেও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দালাল নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে খাজনা পরিশোধের ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল দাখিলা পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সরকার আশা করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে জমি সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। তবে এ জন্য সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সচেতন ও অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এদিকে ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের সব ভূমি মালিককে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে জমির সকল তথ্য হালনাগাদ রাখা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং সরকারি অনলাইন সেবার আওতায় আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা শুধু কর আদায় সহজ করবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ভূমি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


উচ্চশিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মেধাপাচার রোধ ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর

উচ্চশিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মেধাপাচার রোধ ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর

ঢাকা, ১২ মে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশে অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছেন, যারা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার পরিবেশ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে বিশ্বমানের উদ্ভাবন ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে তাদের দেশেই কাজ করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মেধাপাচার রোধ করে দেশীয় মেধাকে লালন ও বিকশিত করার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘ট্রান্সফরমিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির যুগে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সমস্যা সমাধানভিত্তিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল পাঠদানকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এগুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং নীতিনির্ধারণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সরকার উচ্চশিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন খাতে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো খাতে দেশের তরুণদের সাফল্য আশাব্যঞ্জক। তবে দেশে পর্যাপ্ত গবেষণা সুবিধা, আধুনিক ল্যাব, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশের অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এই প্রবণতা বন্ধে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তুলবে।কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষানীতি বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তারা গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের সুপারিশ করেন।বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গবেষণায় সীমিত বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে শিক্ষাব্যবস্থাকে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন।


তামিলনাড়ুতে বড় পদক্ষেপ, একযোগে ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

তামিলনাড়ুতে বড় পদক্ষেপ, একযোগে ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

তামিলনাড়ুতে ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান (TASMAC) বন্ধের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের সাম্প্রতিক ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তামিলনাড়ুর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী এবং 'তামিঝাগা ভেট্রি কাজাগাম' (TVK) প্রধান থালাপতি বিজয়। জনস্বার্থ ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রাজ্যজুড়ে পরিচালিত ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান (TASMAC) অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান এবং জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত দোকানগুলোকেই এই অভিযানের প্রথম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৭১৭টি দোকান এমন সব স্পর্শকাতর স্থানে অবস্থিত ছিল যা সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণগুলো হলো। স্কুল ও কলেজের সীমানার খুব কাছে অবস্থিত দোকানগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের পথে মদ্যপ ব্যক্তিদের উপদ্রব কমবে এবং একটি সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে। মন্দির, মসজিদ ও গির্জার মতো উপাসনালয়ের সন্নিকটে থাকা দোকানগুলো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় সেগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাস স্ট্যান্ড ও প্রধান জনাকীর্ণ এলাকায় থাকা দোকানগুলোর কারণে সন্ধ্যা হলেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতো। এই দোকানগুলো বন্ধ হওয়ায় নারী ও শিশুদের যাতায়াত আরও নিরাপদ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় এলে তিনি ধাপে ধাপে তামিলনাড়ুকে মদ্যপানমুক্ত রাজ্যে পরিণত করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে ৭১৭টি দোকান বন্ধ করা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। সরকারের এই নীতিকে 'জিরো টলারেন্স টু ডিসঅর্ডার' হিসেবে দেখা হচ্ছে।এত বিপুল সংখ্যক দোকান বন্ধের ফলে সরকারের রাজস্বে কিছুটা টান পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সামাজিক সুস্থতাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এছাড়া এই দোকানগুলোতে কর্মরত কর্মচারীদের বেকার না করে অন্য সরকারি বিভাগে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দোকান বন্ধের ফলে যেন অবৈধ মদের ব্যবসা না বাড়ে, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ নজরদারি ও ড্রোন টহলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে মদের দোকান সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বিজয়ের জনপ্রিয়তাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ মদ্যপান নিষিদ্ধকরণের পথকে প্রশস্ত করবে।


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের 'চার দফা' পরকল্পনা, ইরানের পূর্ণ সমর্থন ও নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের 'চার দফা' পরকল্পনা, ইরানের পূর্ণ সমর্থন ও নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রস্তাবিত 'চার দফা শান্তি পরিকল্পনা' ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দুল রেজা রহমানি ফাজলি এই পরিকল্পনার প্রতি তেহরানের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।বেইজিং/তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও উত্তেজনা নিরসনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রস্তাবিত চার দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) বেইজিংয়ে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আব্দুল রেজা রহমানি ফাজলি এক বিবৃতিতে জানান যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা এবং যৌথ উন্নয়নের লক্ষ্যে চীন যে দূরদর্শী প্রস্তাব পেশ করেছে, ইরান তার সাথে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করছে।এই শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাবটি মূলত সামনে আসে গত এপ্রিলের মাঝামাঝিতে, যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (এবং ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান) বেইজিং সফর করেন। সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তার এই কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরেন। বেইজিং মনে করে, বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের চেয়ে অঞ্চলের দেশগুলোর নিজস্ব প্রচেষ্টাই শান্তি ফিরিয়ে আনতে বেশি কার্যকর।শি জিনপিং-এর 'চার দফা' শান্তি পরিকল্পনার মূল স্তম্ভসমূহ:চীনা প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবে চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা: ভৌগোলিক সীমানা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান: কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষা করা। এটি মূলত পশ্চিমা 'রেজিম চেঞ্জ' বা হস্তক্ষেপ নীতির বিপরীত একটি অবস্থান।আন্তর্জাতিক আইনের শাসন: 'জঙ্গলের আইন' বা পেশিশক্তির ব্যবহারের পরিবর্তে জাতিসংঘ কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক আইন ও নীতি মেনে চলা। বেইজিংয়ের মতে, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত, সুবিধাজনকভাবে ব্যবহারের বিষয় নয়।উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বয়: নিরাপত্তা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়, আবার উন্নয়ন ছাড়া নিরাপত্তা টেকসই হয় না। তাই অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা কৌশলকে একসাথে এগিয়ে নেওয়া।২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপনে চীন যে ভূমিকা রেখেছিল, এই চার দফা পরিকল্পনা তারই ধারাবাহিকতা। চীন এখন নিজেকে কেবল বড় ক্রেতা হিসেবে নয়, বরং একজন নির্ভরযোগ্য 'শান্তি দূত' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দুল রেজা রহমানি ফাজলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইরান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান মনে করছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন এককেন্দ্রিক ব্যবস্থার বিপরীতে চীনের এই বহুপাক্ষিক উদ্যোগ তাদের ওপর থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সাথে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর ইরানের সমর্থন পাওয়াটা ইঙ্গিত দেয় যে, চীন একইসাথে সুন্নি ও শিয়া বিশ্বের দুই প্রধান শক্তির সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করতে সক্ষম। এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।যদিও এই পরিকল্পনায় তাত্ত্বিকভাবে কোনো ফাঁক নেই, তবে মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন জটিল। বিশেষ করে চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক আস্থার ওপর। তবে বেইজিংয়ের এই উদ্যোগ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন ক্রমশ বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে।শি জিনপিং-এর এই চার দফা পরিকল্পনা মূলত চীনের 'গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ' (GSI)-এর একটি অংশ। ইরানের এই আনুষ্ঠানিক সমর্থন বেইজিং ও তেহরানের কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সূএ: আল জাজিরা


ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: আলোচনা চললেও সমাধান এখনো অধরা

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: আলোচনা চললেও সমাধান এখনো অধরা

বাংলাদেশের অর্থনীতি কি সংকটময় অবস্থায় আছে?

বাংলাদেশের অর্থনীতি কি সংকটময় অবস্থায় আছে?

বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: জয়ের সমীকরণ নাকি ভাগ্যের খেলা?

বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: জয়ের সমীকরণ নাকি ভাগ্যের খেলা?

ডিজিটাল ফার্মার্স কার্ডে বদলে যাবে কি কৃষির চিত্র?

ডিজিটাল ফার্মার্স কার্ডে বদলে যাবে কি কৃষির চিত্র?

বাংলাদেশের আকাশে উল্কাপাত, বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যের বৈজ্ঞানিক রহস্য

বাংলাদেশের আকাশে উল্কাপাত, বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যের বৈজ্ঞানিক রহস্য

ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের আগমনে সতর্ক ইরান বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা

ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের আগমনে সতর্ক ইরান বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর রাজত্ব শেষ?

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর রাজত্ব শেষ?

জুলাই সনদ ও গণভোট: গভীরতর সংকট, কৌশল ও সম্ভাব্য পরিণতি।

জুলাই সনদ ও গণভোট: গভীরতর সংকট, কৌশল ও সম্ভাব্য পরিণতি।

উন্নয়ন আর ক্রীড়া উৎসবের আমেজে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

উন্নয়ন আর ক্রীড়া উৎসবের আমেজে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট জব্দ, চোরাচালান চক্রের সন্ধানে তদন্ত

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট জব্দ, চোরাচালান চক্রের সন্ধানে তদন্ত

ব্রুনাইয়ে ৮৮ নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে বোয়েসেল, আবেদন শেষ ১৫ মে

ব্রুনাইয়ে ৮৮ নির্মাণ শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে বোয়েসেল, আবেদন শেষ ১৫ মে

শিশুদের হাম পরিস্থিতি, টিকা সংকট খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক তদন্ত

শিশুদের হাম পরিস্থিতি, টিকা সংকট খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক তদন্ত

বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনাল চালু, জাপানি ব্যবস্থাপনায় ২৭% আয় বাংলাদেশ পাবে, ধাপে ধাপে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে যাবে দেশ

বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনাল চালু, জাপানি ব্যবস্থাপনায় ২৭% আয় বাংলাদেশ পাবে, ধাপে ধাপে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে যাবে দেশ

৩০ জুনের মধ্যে খাজনা পরিশোধে জরুরি নির্দেশনা, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় জোর সরকারের

৩০ জুনের মধ্যে খাজনা পরিশোধে জরুরি নির্দেশনা, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় জোর সরকারের

উচ্চশিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মেধাপাচার রোধ ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর

উচ্চশিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মেধাপাচার রোধ ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর

তামিলনাড়ুতে বড় পদক্ষেপ, একযোগে ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

তামিলনাড়ুতে বড় পদক্ষেপ, একযোগে ৭১৭টি সরকারি মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের 'চার দফা' পরকল্পনা, ইরানের পূর্ণ সমর্থন ও নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের 'চার দফা' পরকল্পনা, ইরানের পূর্ণ সমর্থন ও নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার পদত্যাগ

অবতরণের সময় নেপালে তার্কিশ এয়ারলাইন্সে অগ্নিকাণ্ড, সকল আরোহী নিরাপদ

অবতরণের সময় নেপালে তার্কিশ এয়ারলাইন্সে অগ্নিকাণ্ড, সকল আরোহী নিরাপদ

গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়, বিস্তারিত নীতিমালা ও নিষেধাজ্ঞা

গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়, বিস্তারিত নীতিমালা ও নিষেধাজ্ঞা"