দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল। দেশের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের দিন থেকেই সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই টার্মিনালটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। চুক্তির আওতায় জাপানি অপারেটর প্রতিষ্ঠান শুরুতে থার্ড টার্মিনালের অপারেশন, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা সমন্বয়, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে বলে জানা গেছে। বাকি অংশ পরিচালন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা, আন্তর্জাতিক অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশি অংশীদারদের সেবার বিপরীতে ব্যবহৃত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সরাসরি মালিকানা হস্তান্তরের কোনো চুক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন ও ম্যানেজমেন্ট মডেল। বিমানবন্দর ব্যবহার ফি, যাত্রীসেবা চার্জ, কার্গো সার্ভিস, কমার্শিয়াল স্পেস ভাড়া, পার্কিং এবং ডিউটি-ফ্রি শপ থেকে আসা রাজস্ব এই আয় বণ্টনের আওতায় থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে বাংলাদেশের অংশ তুলনামূলক কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ জনবল তৈরি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ লাভবান হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য ১০ থেকে ১৫ বছরের ব্যবস্থাপনা মেয়াদ শেষে থার্ড টার্মিনালের সম্পূর্ণ পরিচালন ব্যবস্থা শতভাগ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি প্রকৌশলী, অপারেশন কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মী এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদেশি সহায়তা ছাড়াই বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় টার্মিনাল পরিচালনা করতে পারবে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রথম ধাপে সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবে। ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াগামী ফ্লাইটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে Biman Bangladesh Airlines-এর কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়াও Emirates, Qatar Airways এবং Saudia-সহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স নতুন টার্মিনাল ব্যবহার শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা উদ্বোধনের আগে প্রকাশ করা হবে। পুরোপুরি চালু হলে থার্ড টার্মিনাল বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী সেবা দিতে সক্ষম হবে। এতে বর্তমান টার্মিনালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, ইমিগ্রেশন জটিলতা ও লাগেজ ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। টার্মিনালটিতে যুক্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের নানা অত্যাধুনিক সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে— বিশ্লেষকদের মতে, থার্ড টার্মিনাল শুধু বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। জাপানি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনালের উদ্বোধন দেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, জাপানি পরিচালন দক্ষতা এবং ধাপে ধাপে বাংলাদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা—সবকিছু মিলিয়ে এটি দেশের অন্যতম কৌশলগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল। দেশের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই টার্মিনাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের দিন থেকেই সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই টার্মিনালটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। চুক্তির আওতায় জাপানি অপারেটর প্রতিষ্ঠান শুরুতে থার্ড টার্মিনালের অপারেশন, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা সমন্বয়, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে বলে জানা গেছে। বাকি অংশ পরিচালন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা, আন্তর্জাতিক অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা এবং বিদেশি অংশীদারদের সেবার বিপরীতে ব্যবহৃত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সরাসরি মালিকানা হস্তান্তরের কোনো চুক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন ও ম্যানেজমেন্ট মডেল। বিমানবন্দর ব্যবহার ফি, যাত্রীসেবা চার্জ, কার্গো সার্ভিস, কমার্শিয়াল স্পেস ভাড়া, পার্কিং এবং ডিউটি-ফ্রি শপ থেকে আসা রাজস্ব এই আয় বণ্টনের আওতায় থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে বাংলাদেশের অংশ তুলনামূলক কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ জনবল তৈরি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ লাভবান হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য ১০ থেকে ১৫ বছরের ব্যবস্থাপনা মেয়াদ শেষে থার্ড টার্মিনালের সম্পূর্ণ পরিচালন ব্যবস্থা শতভাগ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি প্রকৌশলী, অপারেশন কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মী এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিদেশি সহায়তা ছাড়াই বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় টার্মিনাল পরিচালনা করতে পারবে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রথম ধাপে সীমিতসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করবে। ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াগামী ফ্লাইটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে Biman Bangladesh Airlines-এর কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়াও Emirates, Qatar Airways এবং Saudia-সহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স নতুন টার্মিনাল ব্যবহার শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা উদ্বোধনের আগে প্রকাশ করা হবে। পুরোপুরি চালু হলে থার্ড টার্মিনাল বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী সেবা দিতে সক্ষম হবে। এতে বর্তমান টার্মিনালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, ইমিগ্রেশন জটিলতা ও লাগেজ ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। টার্মিনালটিতে যুক্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের নানা অত্যাধুনিক সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে— বিশ্লেষকদের মতে, থার্ড টার্মিনাল শুধু বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। জাপানি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, বিজয় দিবসে থার্ড টার্মিনালের উদ্বোধন দেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, জাপানি পরিচালন দক্ষতা এবং ধাপে ধাপে বাংলাদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা—সবকিছু মিলিয়ে এটি দেশের অন্যতম কৌশলগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন